kalerkantho


‘গোপনে’ বিয়ে করায় শিক্ষক দম্পতিকে পদত্যাগে চাপ

অষ্টগ্রামের বাঙ্গালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘গোপনে’ বিয়ে করায় কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় এক শিক্ষক দম্পতিকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি ওই দম্পতিকে পুলিশে সোপর্দ করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে স্কুলের পক্ষ থেকে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পদত্যাগে চাপ দেওয়ার কোনো এখতিয়ার স্কুল কর্তৃপক্ষের নেই।

ঘটনাটি উপজেলার বাঙ্গালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। ভুক্তভোগী শিক্ষক দম্পতি হলেন মো. নাজমুল হক ও রাবিয়া আক্তার। নাজমুল হক সহকারী প্রধান শিক্ষক, বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইলে। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক রাবিয়া আক্তারের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে। দুই শিক্ষকের দাবি, ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর পরিবারের সম্মতিতে তাঁরা বিয়ে করেন। তবে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। দুই শিক্ষকই আগে একবার বিয়ে করেছিলেন।

সম্প্রতি বিয়ের বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানতে পারে। এরপর রাবিয়া আক্তারকে গত ৫ ডিসেম্বর শোকজ নোটিশ পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাতে বলা হয়, ‘আপনি স্বামীকে তালাক দিয়ে দুই সন্তানের জনক একই বিদ্যালয়ের শিক্ষককে গোপনে বিয়ে করেছেন। আপনার এ কর্মকাণ্ডে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এলাকাবাসী ও ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ব্যাপক অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নৈতিক স্খলন, শিক্ষক হিসেবে মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং বিদ্যালয় পরিপন্থী কর্মকাণ্ড হয়েছে।’ নোটিশে আরো বলা হয়, ‘সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিয়ের কারণে নভেম্বর মাসের বেতন পাননি উল্লেখ করে রাবিয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা তো কোনো অপরাধ করিনি। সামাজিকতা ও আইন মেনেই বিয়ে করেছি। তার পরও হেড স্যার শোকজ করেছেন। আমার স্বামীকেও পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।’ নাজমুল হক জানান, পরিবারের সম্মতিতেই তাঁরা বিয়ে করেন। বিশেষ কারণে স্কুলে এ তথ্য গোপন রাখা হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কমিটির সভাপতি তাঁদের দুজনকেই পদত্যাগ করার জন্য নানাভাবে চাপ দিচ্ছেন। স্কুলে গেলে পুলিশে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম দাবি করেন, পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার এবং পদত্যাগে চাপ দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক নিজেই পদত্যাগ করতে রাজি হয়েছেন।’ এ ব্যাপারে কথা বলতে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনকে একাধিকার মোবাইলে ফোন করা হয়। তবে তাঁর সাড়া মেলেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘বিয়ে করার ঘটনায় শিক্ষককে কোনো রকম চাপ দেওয়ার সুযোগ নেই। ওই দম্পতির কাছে পদত্যাগপত্র চাওয়ার কোনো এখতিয়ারও কমিটি রাখে না। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি।’


মন্তব্য