kalerkantho


গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ

ঢাকার অর্ধেক বাড়িওয়ালা প্রতিবছর ভাড়া বাড়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকা মহানগরীর মোট বাড়ির মালিকদের প্রায় অর্ধেকই প্রতিবছর বাড়িভাড়া বাড়ান। সে হিসাবে অর্ধেক ভাড়াটেকে প্রতিবছর বাড়তি বাসাভাড়া গুনতে হয়।

রাজধানীর আবাসনব্যবস্থা নিয়ে জরিপ চালিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। পুরান ঢাকা, মিরপুর, রামপুরা ও বাড্ডা এলাকার ৪০১টি বাড়িতে এই জরিপ চালানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নগরীর মানুষের আয়ের ৪৪ ভাগ অর্থ খরচ হচ্ছে বাসা ভাড়ায়। অথচ আদর্শ শহরের আয়ের সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ৩০ ভাগ অর্থ বাসা ভাড়ায় খরচ হয়। এ ছাড়া ৭১ ভাগ বাসায় কোনো উন্মুক্ত স্থান নেই। অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই ৯৫ ভাগ বাসায়।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইডিজি) পরিচালিত বার্ষিক গবেষণা ‘নগর পরিস্থিতি ২০১৭ : ঢাকা মহানগরীর আবাসন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সৈয়দা সেলিনা আজিজ। গবেষণা প্রতিবেদনে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে বসবাস করা ৬৮ শতাংশ মানুষ ভাড়া বাসায় থাকে। আর ৩২ শতাংশ মানুষ নিজস্ব বাসায় থাকে। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ মানুষের এক হাজার বর্গফুট এবং তার চেয়ে ছোট বাসার চাহিদা। আর ৫ শতাংশ মানুষ দুই হাজার বর্গফুট বা তার চেয়ে বেশি আয়তনের বাসায় বসবাস করে।

তা ছাড়া আয়ের সঙ্গে সংগতি না থাকায় ঢাকা শহরে বসবাসরত ৬৮ শতাংশ লোক ঢাকায় নিজস্ব আবাসন কিনতে চায় না। এসব মানুষকে নিজস্ব আবাসন নিশ্চিত করতে নীতি সুবিধা সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদন।

সৈয়দা সেলিনা আজিজ বলেন, ঢাকা শহরের ওপর চাপ কমানোর জোর সুপারিশ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকার কাছাকাছি উপশহর গড়ে তুলে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে মেট্রো রেলসহ আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সৈয়দা সেলিনা আজিজ আরো বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় যারা ঢাকা শহরে আসতে এবং থাকতে বাধ্য হচ্ছে তাদের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর যেসব নীতি সহায়তা থাকার পরও যেসবের বাস্তবায়ন নেই, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন করারও জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

এ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করেন বিআইডিজির নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের শহরের ওপর চাপ কমাতে আশপাশ এলাকাগুলোকে সংযুক্ত করতে হবে। মূল শহরের সঙ্গে এসব এলাকার যাতায়াতব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। আর মানুষের আবাসনব্যবস্থা উন্নত করতে হলে ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা আরো সহজ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি লোন সরবরাহ করতে গ্রাহকদের জন্য আলাদা ফান্ড করতে হবে। কারণ আমাদের ব্যাংকগুলো নীতিমালার কারণে ছয়-সাত বছরের বেশি মেয়াদে গৃহঋণ দিতে পারে না।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিআইডিজির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট সিরাজুল ইসলাম, রিসার্চ ফেলো ড. শাহনেওয়াজ হোসাইন প্রমুখ।


মন্তব্য