kalerkantho


লোকসানের অঙ্ক বাড়ছেই

বিটিসিএল বরিশাল অঞ্চল

বরিশাল অফিস   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পেরে উঠছে না বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কম্পানি লিমিটেড—বিটিসিএলের ল্যান্ডফোন ও ইন্টারনেট সেবা। বরিশাল অঞ্চলের এক্সচেঞ্জগুলোতে সংযোগ দেওয়ার যে সক্ষমতা বিটিসিএলের আছে, তার প্রায় অর্ধেকই অব্যবহৃত অবস্থায় আছে। এতে রাজস্ব আদায় নেমে গেছে অর্ধেকে। আবার আয়ের চেয়ে ব্যয় প্রায় তিন গুণ বেশি। সেবা গ্রাহক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সেবার মান না বাড়ালে এ খাতে বিটিসিএলের টিকে থাকাই দায় হবে।

বিটিসিএল সূত্র জানায়, বরিশাল অঞ্চলে তাদের এক্সচেঞ্জের সংখ্যা ৪৬টি। সংযোগ দেওয়ার সক্ষমতা আছে ৪২ হাজার ৭৩২টি। অথচ ওই অঞ্চলে টেলিফোনের সংযোগ রয়েছে মাত্র ১৫ হাজার ২৩২টি। টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া যাবে দুই হাজার ২০৪টি; কিন্তু সংযোগ রয়েছে এক হাজার ৫১৫টি। বিটিসিএলের যখন এই অবস্থা, তখন বেসরকারি পর্যায়ে সেখানে ইন্টারনেটের ব্যবসা লাভজনক।

বিটিসিএল উন্নত সেবা দিতে না পারায় গ্রাহকরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা।

তথ্যানুযায়ী, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বরিশালে টেলিকম বিভাগে রাজস্ব আদায় হয় ১০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। পাঁচ বছর পর ২০১০-১১ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় পাঁচ কোটি ৮১ লাখে। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ওই অঞ্চলে কম্পানির মোট আয় হয় পাঁচ কোটি ১৬ লাখ টাকা। যেখানে ব্যয় হয় ১১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আয় যেখানে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা, সেখানে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়। আর ২০১৬-১৭ বছর চার কোটি ৫৪ লাখ আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা।

প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান ‘ইউরোটেল বিডি লিমিটেড’-এর চেয়ারম্যান এস এম জাকির হোসেন বলেন, বিটিসিএলে ২৪ ঘণ্টা যে সেবা থাকার কথা, তা নেই। এ কারণে তাঁরা বিটিসিএলের কাছ থেকে ব্যান্ডউইডথ নিয়ে গ্রাহকদের সেবা দিতে পারছেন না। শুক্র শনিবার বন্ধ থাকায় গ্রাহকরা সেবা পাচ্ছে না।

বিটিসিএল বরিশাল শাখার জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে লোকসান করছে বিটিসিএল। গ্রাহকরা সংযোগ নিচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রযুক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।’



মন্তব্য