kalerkantho


গৃহবধূকে নির্যাতন

১৮ বছর ধরে যৌতুক দিয়েও রেহাই নেই

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কুড়িগ্রামের রৌমারীতে একটি কলেজের এক কর্মচারী বিয়ের ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের জন্য তাঁর স্ত্রীকে নির্যাতন করে আসছেন। এ দেড় যুগে তিনি বহুবার যৌতুক নিয়েছেন। সর্বশেষ মোটরসাইকেল যৌতুক চেয়ে না পেয়ে স্ত্রীকে মারধর করে ঘরে আটকে রাখেন। গত বুধবার এ উপজেলার কোমরভাঙ্গি আকন্দপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশের সাহায্যে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত ব্যক্তি কোমরভাঙ্গি আকন্দপাড়ার আব্দুস ছাত্তারের ছেলে আব্দুল হাই। তিনি যাদুরচর ডিগ্রি কলেজের অফিস সহায়ক পদে কর্মরত। নির্যাতিত গৃহবধূ আছমা খাতুন রাজীবপুর উপজেলার শিবেরডাঙ্গী গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষক ইউসুফ আলীর মেয়ে।

ইউসুফ আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা খবর পাই যে আছমাকে মারধর করে অজ্ঞান অবস্থায় ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমি জামাইর বাড়িতে ছুটে যাই। কিন্তু আমাকে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। পরের দিন বৃহস্পতিবার সারাদিনও যখন আমার মেয়েকে দেখতে দিল না তখন রাত ৭টার দিকে পুলিশ নিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় আমার মেয়েকে উদ্ধার করে রৌমারী হাসপাতালে ভর্তি করাই। মেয়ে আমার এখন বিছানা থেকে একা উঠতে পারে না।’ তিনি অভিযোগ করে জানান, তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়েছে প্রায় ১৮ বছর হলো। এর মধ্যে অসংখ্যবার তাঁর মেয়েকে নির্যাতন করা হয়েছে। ১৫ বারের মতো গ্রাম্য সালিস হয়েছে।

ইউসুফ আলী বলেন, ‘জামাই যখন যা চাইছে আমার সাধ্যমতো দেওয়ার চেষ্টা করেছি। জমি বিক্রি করে জামাইকে কলেজে চাকরি নিয়ে দিয়েছি। একবার সাইকেল চাইল, দিয়েছি। জামাইর ঘর সাজাতে যা যা আসবাবপত্র লাগে সব দিয়েছি। এ যাবৎ প্রায় সাত-আট লাখ টাকা গেছে। এখন নতুন বায়না ধরছে মোটরসাইকেলের। তাও আবার দুই লাখ টাকা দামের। আমরা গরিব মানুষ, জমি বর্গা চাষ করে চলি। এত টাকা জোগাড় করা খুবই কষ্টের। তার পরও জামাইকে বলেছি এক লাখ ২০ হাজার টাকা দামের মোটরসাইকেল কিনে দিব, তবে একটু সময় লাগবে। কিন্তু তিনি তা নেবেন না। ১৫০ সিসির গাড়িই তাঁকে দিতে হবে।’

 

চিকিৎসাধীন আছমা খাতুন বলেন, ‘এর আগে একবার আমার বাঁ হাত ভাইঙ্গা দিছিল। আমাক খুব কষ্ট দেয়। কারণে অকারণে মারধর করে। মাঝেমধ্যে বাপের বাড়ি থিকা টাকা আনতে বলে। ঘরে আমার এক মেয়ে এক ছেলে। যখন আমাকে মারে তখন আমার দুই সন্তান কান্নাকাটি করে, তার পরও ওর (স্বামী) মন গলে না।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আব্দুল হাই বলেন, ‘আমার বউকে আমি মারছি তাতে আপনার সমস্যা কোথায়? এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাইনষে মেয়ের জামাইকে অনেক কিছু দেয়। আমি একটা মোটরসাইকেল চাইছি। এটা অন্যায় হয়েছে?’

এদিকে পুলিশ মামলা নিতে চায় না বলে অভিযোগ করেছেন আছমার বাবা ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে পুলিশ যাইয়া উদ্ধার করল। এখন মামলা নিবার চায় না। পুলিশ কয় মীমাংসা হইয়া যাওগা। জামাইর আত্মীয় রুহুল আমিন এলাকার এমপি। তাই বলে কি বিচার পাব না। জামাই হুমকি দিয়া কইছে এবার আমার মেয়েকে জানে মাইরা লাশ গুম কইরা দিব।’

এ ব্যাপারে রৌমারী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মামলা নেব না—এমন কথা আমি বলিনি। আমি নানা ব্যস্ততার কারণে মেয়ের বাবার সঙ্গে ভালো করে কথা বলতে পারিনি। অভিযোগ দিলে মামলা নেওয়া হবে।’


মন্তব্য