kalerkantho


বাংলা একাডেমির ফেলোশিপ পেলেন সাত বিশিষ্টজন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০




বাংলা একাডেমির ফেলোশিপ পেলেন সাত বিশিষ্টজন

বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের ‘৪০তম বার্ষিক সভা ২০১৭’-এ ফেলোশিপ পাওয়া বিশিষ্টজনদের সঙ্গে অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা সাত বিশিষ্টজনকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ দিয়েছে বাংলা একাডেমি। একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪০তম বার্ষিক সভায় এই ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। একই অনুষ্ঠানে ব্যক্তি উদ্যোগে চালু হওয়া এবং বাংলা একাডেমি পরিচালিত পাঁচটি পুরস্কারও তুলে দেওয়া হয়েছে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে।

গতকাল শনিবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ সারা দেশ থেকে আসা বাংলা একাডেমির ফেলো, জীবন সদস্য এবং সদস্যসহ দুই সহস্রাধিক বিশিষ্টজন অংশগ্রহণ করেন।

যাঁদের ফেলোশিপ দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন ইকবাল বাহার চৌধুরী (সাংবাদিকতা), প্রতিভা মুত্সুদ্দি (ভাষা আন্দোলন, নারী নেতৃত্ব এবং শিক্ষা ও সমাজসেবা), অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ (চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা), অধ্যাপক আইনুন নিশাত (পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদ), ড. নূরুন নবী (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাহিত্য), হাসান শাহরিয়ার (সাংবাদিকতা) এবং দুলাল তালুকদার (নৃত্যকলা)।

ভাষাসংগ্রামী ও প্রাবন্ধিক আহমদ রফিক প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত সাহিত্যিক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার ২০১৭, কবি রুবী রহমান মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার ২০১৭, অধ্যাপক সাইফুদ্দীন চৌধুরী ও অধ্যাপক শফিউল আলম সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭, অধ্যাপক আলী আসগর মেহের কবীর বিজ্ঞানসাহিত্য পুরস্কার ২০১৭ এবং জায়েদ ফরিদ উদ্ভিদস্বভাব বইয়ের জন্য হালীমা-শরফুদ্দীন বিজ্ঞান পুরস্কার ১৪২৪ বঙ্গাব্দ লাভ করেন। সাহিত্যিক মোহম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কারের অর্থমূল্য এক লাখ টাকা, মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কারের অর্থমূল্য এক লাখ টাকা, সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার টাকা, মেহের কবীর বিজ্ঞানসাহিত্য পুরস্কারের অর্থমূল্য এক লাখ টাকা এবং হালীমা-শরফুদ্দীন বিজ্ঞান পুরস্কারের অর্থমূল্য ৩০ হাজার টাকা।

পুরস্কার ও ফেলোশিপপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কারের অর্থমূল্য, সম্মাননাপত্র, সম্মাননা-স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

সভায় একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান ২০১৬-১৭ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন উপস্থাপন করেন ২০১৭-১৮ সালের বাজেট। একাডেমির সদস্যরা বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজেট সম্পর্কে সাধারণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। একাডেমির মহাপরিচালক সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং উত্থাপিত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য দেন। সাধারণ সভার কার্যক্রম সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন।

সভাপতির ভাষণে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘সবার অংশগ্রহণে আজকের এই দিনব্যাপী সভা আমাদের আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি একাডেমির অঙ্গীকারের কথা। গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে একাডেমির ঐতিহ্য বজায় রাখতে ও বিস্তৃত করতে আমাদের আরো সচেষ্ট হতে হবে।’



মন্তব্য