kalerkantho


চিরশায়িত হলেন ছায়েদুল হক

লাখো মানুষের ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি    

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



লাখো মানুষের ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত বিদায়

গতকাল সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. ছায়েদুল হকের জানাজা শেষে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। ছবি : কালের কণ্ঠ

লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক এমপি। গতকাল রবিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে তৃতীয় জানাজা শেষে বিকেল সোয়া ৪টায় পূর্বভাগ গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার মাঝখানে তাঁকে দাফন করা হয়। ছায়েদুল হকের ইচ্ছা অনুসারেই তাঁর লাশ সেখানে দাফন করা হয়।

ছায়েদুল হকের জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেয়। দল-মত নির্বিশেষে মন্ত্রীর কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়ে। জানাজায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মরহুমের ছেলে ডা. রায়হানুল হক বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। নিজ গ্রামে ডা. রায়হানুল নিজেই জানাজা পড়ান।

গতকাল সকালে ঢাকায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছায়েদুল হকের প্রতি। সেখানে সকাল সাড়ে ৯টায় ছায়েদুল হকের প্রথম জানাজা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ ও সংসদ সদস্য জানাজায় শরিক হন।

রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের নেতারা, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের পক্ষ থেকে নূর-ই-আলম চৌধুরী ও  হুইপবৃন্দ, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদের পক্ষে বিরোধীদলীয় হুইপ মো. নুরুল ইসলাম ওমর, পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাবের পক্ষে এ বি তাজুল ইসলাম পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মরহুমকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এ সময় ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এর আগে মরহুমের রাজনৈতিক সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা তাঁর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন। পরে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত হয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারসহ উপস্থিত সবাই মোনাজাতে অংশ নেন।

এরপর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মন্ত্রীর মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর নেওয়া হয়। সেখানে আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা হয়। এর আগে মুক্তিযুদ্ধের এ বীর সেনানীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম এমপি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এ কে এম একরামুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. মাঈনুদ্দিন মঈন প্রমুখ জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। সেখানে জানাজা পড়ান মাওলানা আব্দুল হাকিম চৌধুরী। খেলার মাঠটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেলে সড়ক ও আশপাশে দাঁড়িয়ে মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

মন্ত্রীর তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় পূর্বভাগ এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে জানাজা পড়ান মন্ত্রীর ছেলে রায়হানুল হক। বিকেল সোয়া ৪টায় পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার মাঝখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হন ছায়েদুল হক।  মন্ত্রীর মৃত্যুতে তিন দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি এরই মধ্যে পালন শুরু হয়েছে। উপজেলা বিএনপি শনিবার তাদের বিজয় দিবসের কর্মসূচি স্থগিত করে মন্ত্রীর জন্য দোয়া পড়ান।

নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ গ্রামে ১৯৪২ সালের ৪ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন ছায়েদুল হক। তাঁর বাবার নাম মোহাম্মদ সুন্দর আলী এবং মায়ের নাম মেহের চান্দ বিবি। ১৯৬৮ সালে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে এমএ করেন তিনি, এরপর এলএলবি পাস করেন। ছায়েদুল হক ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নেন। তিনি ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে মোট পাঁচবার নাসিরনগর থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।


মন্তব্য