kalerkantho


রংপুর সিটি নির্বাচন

কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ

আর মাত্র পাঁচ দিন পর রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, উত্তাপ বাড়ছে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে। মেয়র পদে বড় তিনটি দলের প্রার্থীরা সবাই একে অন্যের বিরুদ্ধে কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু এবং বিএনপি প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা দুজনই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন।

এরই মধ্যে রংপুরে এসেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় অনেক নেতা। তাঁরাও প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে। মেয়রপ্রার্থীর পাশাপাশি নিজের দলের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে দলগুলোর নেতাকর্মীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার নগরের ধাপ কাঁচাবাজারে গণসংযোগ করার সময় আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী ঝন্টু সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চালিয়ে আসছি। অথচ নির্বাচন কমিশন আমার প্রতি বৈরী আচরণ করছে। সামান্যতেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে জরিমানা করা হচ্ছে। অথচ মঙ্গলবার রাতে নগরের মাহিগঞ্জে মঞ্চ বানিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন। এ ব্যাপারে নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে কয়েক দফা অভিযোগ করা হলেও তাঁরা পদক্ষেপ নেননি।’ তবে নির্বাচনে কালো টাকা ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে ঝন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির প্রার্থী। এই অভিযোগ সম্পর্কে ঝন্টু আরো বলেন, ‘টাকার অভাবে আমি নির্বাচনে প্রচারণাই চালাতে পারছি না। অথচ যাঁরা এসব অভিযোগ করছেন, তাঁরাই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করছেন। কালো টাকা আর সাদা টাকা খরচ করার প্রশ্নই ওঠে না।’

ঝন্টুর আনা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। গতকাল নগরের সিটি বাজারে গণসংযোগ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন তা উদ্দেশ্যমূলক। মঙ্গলবার রাতে মাহিগঞ্জ এলাকায় পেছনে কাপড় লাগিয়ে খোলা জায়গায় পথসভা করেছি। সেখানে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো কোনো কাজ আমি করিনি। আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাঠের অবস্থা শোচনীয় বুঝতে পেরে আবোল-তাবোল বলা শুরু করেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘লাঙ্গলের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা রোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।’

নির্বাচনে কালো টাকা ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগকে বানোয়াট দাবি করে মোস্তফা বলেন, ‘আমি মোস্তফা একজন সাধারণ মানুষ। আমার কোনো টাকা-পয়সা নেই, এটা নগরবাসী জানে। নগরের পান দোকানদার, চায়ের দোকানদারসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আমাকে সহায়তা করছে।’

মোস্তফা আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বার্ষিক আয় অর্ধকোটি টাকা, উনি নিজেই তা দেখিয়েছেন। তাই কালো টাকা ছড়ানোর ক্ষমতা কার আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’

গতকাল নগরীর মাহিগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ করেন বিএনপি মেয়র প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা। এ সময় তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যেই মোটরসাইকেলে করে শোডাউন করছেন, সভা-সমাবেশ করছেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কমিশন। তারা কালো টাকা ছড়িয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। ফলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে বলে আমার মনে হচ্ছে না। এ জন্যই আমি নির্বাচনে সেনাবাহিনী  মোতায়েন করার দাবি জানিয়েছি।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। এখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব করার সুযোগ নেই। কালো টাকা ছড়ানোর ব্যাপারে কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রচারণায় কেন্দ্রীয় নেতারা : আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ঝন্টুর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গত বুধবার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও তথ্য গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে দুইটি টিম রংপুরে এসেছে। ওই দিন সন্ধ্যা থেকে তারা ঝন্টুর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় অংশ নেয়। এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি বলেন, ‘নির্বাচনে দল মনোনীত মেয়র প্রার্থীসহ দলীয় কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছে।’



মন্তব্য