kalerkantho


সরকারি কর্মচারী আইন নিয়ে টিআইবির বিবৃতি

কিছু বিধান পুনর্বিবেচনার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



‘সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৭’-এর খসড়া প্রণীত হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে জনপ্রশাসনে পেশাদারি ও নিরপেক্ষতার জন্য আইনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে সংস্থাটি। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে টিআইবি খসড়া আইনটির বেশ কিছু বিধান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭(১) ধারা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও খসড়া আইনের (৪৬) ধারায় দায়িত্ব পালনজনিত কারণে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হলে চার্জশিট দেওয়ার আগে গ্রেপ্তার করতে সরকারের অনুমতি রাখার যে বিধান হয়েছে, তা বৈষম্যমূলক ও সাংবিধানিক চেতনার পরিপন্থী।’

বিবৃতিতে টিআইবি আইনটির খসড়া প্রণীত হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও বেশ কিছু বিধান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এর ওপর অংশীজনদের মতামত নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবি বলেছে, রাষ্ট্রপতির বিশেষ এখতিয়ারে চারটি সর্বোচ্চ স্তরে ১০ শতাংশ কর্মচারী প্রেষণে বা চুক্তিতে নিয়োগের যে বিধান রাখা হয়েছে, তা জনপ্রশাসনে দলীয়করণ ও পেশাদারি খর্ব করার ঝুঁকি বৃদ্ধি করবে। সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি নির্ধারণ ছাড়া ‘সন্তোষজনক’ পদোন্নতির সুযোগ আইনে সংযুক্ত হলে জনপ্রশাসনে মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অবমূল্যায়ন হবে এবং পেশাগত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

খসড়া আইনের ৪৭(৩) ধারায় রাষ্ট্রপতি শাস্তি মওকুফ করলে চাকরিতে পুনর্বহালের যে বিধান রাখা হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও চিন্তাভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার যেকোনো সময় যেকোনো কর্মচারীকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়া চাকরি থেকে অবসর প্রদান করতে পারবে বলে যে বিধান খসড়ায় রাখা হয়েছে তা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

‘সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৭’-এর খসড়া নিয়ে গত ২৭ নভেম্বর কালের কণ্ঠ প্রথম পাতায় ‘আইনের চোখে ঊর্ধ্বেই থাকছেন সরকারি চাকুরে’ শিরোনামে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ করে। পরে বিভিন্ন সংবাদপত্র এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে।



মন্তব্য