kalerkantho


উন্মুক্ত সংলাপে বক্তারা

ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ উপাচার্যকেই নিতে হবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



‘বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের অন্যতম অনুষঙ্গ ছাত্র সংসদ নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য থেকে শুরু করে সবাই এই নির্বাচনের পক্ষে রয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুষ্ঠু শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ডাকসুসহ সব প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দরকার। আর অধ্যাদেশ অনুযায়ী ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ উপাচার্যকেই নিতে হবে।’

গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ডাকসুসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে উন্মুক্ত সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এই সংলাপের আয়োজন করে। এ সময় ছাত্র সংসদের সাবেক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আলী, ডা. মোস্তাক হোসেন, সাবেক ভিপি সুলতান মনসুর, সাবেক সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আনোয়ার হোসেন, রাকসুর সাবেক ভিপি রাগীব আহসান মুন্না, চাকসুর সাবেক ভিপি শামসুজ্জামান হীরা, অনশনকারী ওয়ালিদ আশরাফ প্রমুখ। সভায় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন সভাপতি জি এম জ্বিলানী শুভ।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘বাংলাদেশে একাত্তর ও নব্বই সালে দুটি বিজয় সাধিত হয়েছে। সর্বশেষ নব্বই সালে বিজয়ের পরে আমরা ভেবেছিলাম প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারব। কিন্তু দুর্ভাগ্য দেশে প্রকৃত গণতন্ত্রায়ন এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শুধু কেন্দ্রে একটি নির্বাচিত সরকার করলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না। এ জন্য দরকার দেশের প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচন দিয়ে সুষ্ঠুভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা। কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষক, আইনজীবী, কর্মচারী ও ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন হয় শুধু শিক্ষার্থীদের নির্বাচন ছাড়া। এ জন্য শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই ডাকসুসহ সব প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দরকার।’

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের অন্যতম অনুষঙ্গ ছাত্র সংসদ নির্বাচন। সরকার ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাধা দেয়—এটা আমাদের ভুল ধারণা। ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ উপাচার্যকেই নিতে হবে। শিক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য—সবাই ছাত্র সংসদ নির্বাচন চান। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালতেরও সিনেট পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা রয়েছে। তাই অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের এই দাবিতে আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে।’ 

সুলতান মনসুর বলেন, ‘বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ছাত্র সংসদ নির্বাচন বা ডাকসু সম্পর্কে জানে না। তাই ডাকসু নির্বাচনের জন্য সর্বপ্রথম দরকার ছাত্রসমাজের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা। ছাত্ররা ঐক্যবদ্ধ হলেই জাতীয় গণজাগরণ তৈরি হবে। এই গণজাগরণের ফলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে। এটা না করতে পারলে আমাদের সারা জীবন প্রশাসনের গোলামি করতে হবে।’

ওয়ালিদ আশরাফ বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে। কিন্তু ডাকসু না থাকায় তা সব ক্ষেত্রেই ব্যাহত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্কুলের মতো চলছে। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চরিত্র নয়। আমরা অতীতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা দেখেছি। কিন্তু এখন আর তা দেখা যায় না। ডাকসু না থাকায় এই নির্জীবতার পেছনে অনেক বড় একটা কারণ। ডাকসু নির্বাচন শুধু শিক্ষার্থীদের অধিকার নয়, এটা প্রশাসনের দায়িত্ব।’


মন্তব্য