kalerkantho


বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধিমালা

একজন বিচারক অনুপস্থিত থাকায় গেজেট পেশ হয়নি

আইনজীবী সমিতির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



একজন বিচারক অনুপস্থিত থাকায় গেজেট পেশ হয়নি

সরকার নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করলেও তা আদালতে দাখিল করা যায়নি। আপিল বিভাগের বর্তমান পাঁচজন বিচারপতির মধ্যে একজন না থাকায় গতকাল ওই গেজেট রাষ্ট্রপক্ষ দাখিল করতে পারেনি। আগামী ২ জানুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ দিন ধার্য করেন। গতকাল সকালে চার বিচারপতি এজলাসে বসার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমাদের একজন সহকর্মী (বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী) আজ নেই। তাঁর এক আত্মীয় (ভগ্নিপতি) মারা গেছেন। এ কারণে আমরা আজ শুনতে পারছি না। আগামী ২ জানুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হলো।’

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। দীর্ঘদিন পরে হলেও গত ১১ ডিসেম্বর সরকার বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করে। এই গেজেট এখন রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে দাখিল করবে। এরপর আপিল বিভাগ পরবর্তী নির্দেশনা কী হবে সে বিষয়ে আদেশ দেবেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, সকালে গেজেট দাখিল করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু একজন বিচারপতি না থাকায় তা হয়নি। তিনি বলেন, গেজেট জারির আগে আপিল বিভাগের সব বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেছেন আইনমন্ত্রী। তাঁদের সম্মতি নিয়েই গেজেট করা হয়েছে। এখন যাঁরা এর সমালোচনা করছেন তাঁরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটা করছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির বিরূপ মন্তব্য করা সঠিক হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ গেজেট করা হয়েছে। তাই বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির দায়িত্ব বা কর্তৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া সংবিধানের চেতনাবিরোধী।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন গতকাল দুপুরে সমিতি ভবন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন ডেকে জারি করা গেজেট বাতিল করে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন করে গেজেট জারির দাবি জানান। তিনি বলেন, যে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে তা মাসদার হোসেন মামলার পরিপন্থী। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে।

সমিতির সভাপতির বক্তব্যের বিরোধিতা করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন সহসভাপতি মো. অজি উল্লাহর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা। মো. অজিউল্লাহ বলেন, আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান অনুযায়ী গেজেট জারি করা হয়েছে।



মন্তব্য