kalerkantho


‘ডাক টাকা’ উদ্বোধন

বিশেষ প্রতিনিধি   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



‘ডাক টাকা’ উদ্বোধন

ডিজিটাল পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেনের জন্য ‘ডাক টাকা’ নামে নতুন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা কার্যক্রম চালু করেছে ডাক বিভাগ। ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এই ডিজিটাল আর্থিকসেবা উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গতকাল সোমবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডাক টাকা’ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করেন। এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে আগামী তিন মাসের মধ্যে। দেশের ই-পোস্ট সেন্টারগুলো থেকে এই সেবা মিলবে। এ ছাড়া এই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় মাত্র দুই টাকা জমা রেখে বিনা মূল্যে হিসাব খোলা যাবে।

টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মর্জিনা বেগমের মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে হিসাব খুলে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়। জানানো হয়, মর্জিনা বেগমের কোনো ব্যাংক হিসাব নেই।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা প্রায় তিন কোটি মানুষকে আগামী এক বছরে এই সেবার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। ডাক বিভাগের কারিগরি অংশীদার ও পেমেন্ট সুইচ প্রোভাইডার ‘আইটিসিএল’ এবং এই সেবা প্রদানকারী সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ‘ডি-মানি’র মাধ্যমে খুব সহজেই ‘ডাক টাকা’ অ্যাকাউন্ট খুলে পোস্টাল ক্যাশ কার্ডের মাধ্যমে ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট করা সম্ভব হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সেবাটি ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে মার্চেন্ট ও খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের অংশ হওয়া যাবে। অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করা যাবে। মাত্র দুই টাকা জমা করার মাধ্যমে নাগরিকরা বিনা মূল্যে ‘ডাক টাকা’র  হিসাব খুলতে পারবে।

অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘ডাক বিভাগের এই সেবা উদ্বোধন করতে পেরে, এই সফটওয়্যার দেখে আমি আনন্দিত। আমি আরো আনন্দিত যে মাত্র দুই টাকা দিয়ে এর অ্যাকাউন্ট খোলা হলো। বাংলাদেশ ব্যাংক এ প্রক্রিয়া শুরু করেছিল পাঁচ টাকা দিয়ে। এটা হচ্ছে আমাদের ফার্স্ট স্টেপ। আশা করি এটি সাকসেসফুল হবে, মানুষ যত বেশি এটি ব্যবহার করবে, তত বেশি সেবা হবে।’

জয় আরো বলেন, ‘আমরা সরকারি সার্ভিস ডিজিটাইজড করছি। আমরা চাই মানুষের জীবন সহজ করতে, সব কিছু যাতে মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাওয়া যায়। গ্রামে বা ইউনিয়ন পর্যায়ে সাধারণত ব্যাংকের শাখা থাকে না। ব্যাংক করতে অনেক টাকা লাগে, সময় লাগে। এ কারণে আমরা চেয়েছি ডাকঘরের মাধ্যমে এই সেবা গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছাতে, যাতে তারা গ্রামে বসে টাকা লেনদেন, ভাতা পাওয়া ও তা খরচ করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘ডাক বিভাগের আট হাজারেরও বেশি ডাকঘর আছে। গ্রামীণ এলাকার সব জায়গায় ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাংক থাকে না। আমাদের চিন্তা ছিল ডাকঘর দিয়ে এই সেবা মানুষের কাছে পৌঁছাব, যেখানে বসে তারা টাকা লেনদেন, ভাতা পাওয়া ও খরচ ডিজিটালি করতে পারবে।’

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ডাক টাকার মাধ্যমে ২০১৮ সালের মধ্যে তিন কোটি মানুষকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মণ্ডল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের গ্রামীণ ই-পোস্ট সেন্টারগুলো থেকে এই সেবা পাওয়া যাবে। এসব সেন্টারের উদ্যোক্তারা এটি পরিচালনা করবে। এসব সেন্টারে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্ক্যানার সবই রয়েছে। এসব সেন্টারের আট লাখ কর্মীকে এক বছর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’

ডাক টাকার ব্যবহার ও সুবিধা সম্পর্কে ডি-মানির ভাইস প্রেসিডেন্ট সোনিয়া বশির কবির বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, নাগরিকসেবার কথা বিবেচনায় রেখে ডাক টাকায় আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) এবং কুইক রেসপন্স (কিউআর) কোড সুবিধা রাখা হয়েছে।

ডাক টাকা কার্যক্রম উদ্বোধন করতে গতকাল সকাল সোয়া ১১টার দিকে সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে উপস্থিত হন সজীব ওয়াজেদ জয়। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক ও ডি-মানির চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী এবং অন্য কর্মকর্তারা।


মন্তব্য