kalerkantho


২৭ দিন পর সচল হচ্ছে বুয়েট

শিক্ষার্থীরা শনিবার ক্লাসে ফিরছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২২ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



২৭ দিন পর সচল হচ্ছে বুয়েট

আট দফা দাবিতে গতকাল সমাবেশ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দীর্ঘ ২৭ দিন পর সচল হচ্ছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। ক্লাসে ফিরছে বুয়েট শিক্ষার্থীরা।

কর্তৃপক্ষ গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে উত্থাপিত দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় আগামী শনিবার থেকে তারা ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুয়েটের ১৩তম ব্যাচ ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী পার্থ প্রতীম দাস কালের কণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো হলো : পলাশী ও বকশীবাজার মোড়ে গেট নির্মাণ, দুই গেটে অতিরিক্ত প্রহরী মোতায়েন, ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বুয়েট ক্যাম্পাসের ভেতরের ফুট ওভারব্রিজ বন্ধ করা, বহিরাগতদের হামলার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করা, ক্যাম্পাসের ভেতরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং মাদক কারবারি রাজুসহ তার সহযোগীদের আটক ও মামলা দায়ের করা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, উল্লিখিত দাবিগুলোর মধ্যে বিশেষ করে পলাশী ও বকশীবাজার মোড়ে গেট নির্মাণ, তদন্ত কমিটি গঠন ও মাদক কারবারি রাজুসহ সহযোগীদের আটক এবং মামলা দায়েরের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা আগামী শনিবার থেকে ক্লাসে ফিরতে রাজি হয়।

পার্থ প্রতীম দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমাদের মূল দাবি ছিল পলাশী ও বকশীবাজার মোড়ে গেট নির্মাণ। পরে শিক্ষকরা সব দাবি মেনে নেন এবং গেট নির্মাণে শিক্ষকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন হয়েছে। ফলে শিক্ষকদের প্রতি সম্মান রেখেই আমরা শনিবার থেকে ক্লাসে যাব। ’

বুয়েট ক্যাম্পাসে গত ২৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জের ধরে পরদিন সংঘর্ষে জড়ায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে মারধর করার অভিযোগ এনে বুয়েটের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীরা। ওই সংঘর্ষের পরদিন থেকেই নিরাপদ ক্যাম্পাস চেয়ে আট দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন শুরু করে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ২৯ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে ক্লাস ও ল্যাব বর্জন করে তারা। আর বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেও দাবি না মানায় বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখে শিক্ষার্থীরা।


মন্তব্য