kalerkantho


রংপুর সিটি নির্বাচন

উন্নয়নবঞ্চিত বর্ধিত সিটির ভোটারদের আগ্রহ কম

রংপুর অফিস   

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রংপুরকে দেশের সর্বশেষ ও দশম সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করার পর এর প্রথম নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক আগ্রহ-উদ্দীপনা ছিল। ২০৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গঠিত এই সিটি নিয়ে মহাপরিকল্পনার কথা বলায় সারা দেশের মানুষেরও আগ্রহের কমতি ছিল না এটিকে ঘিরে; কিন্তু আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে, বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের নতুন অন্তর্ভুক্ত এলাকার সাধারণ মানুষ যেন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

কারণ হিসেবে তারা বলছে, বিগত পাঁচ বছরে এসব এলাকার কোনো উন্নয়ন হয়নি। উল্টো বেড়েছে করের বোঝা।

উন্নয়নবঞ্চিত এলাকার বাসিন্দারা বলে, পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার পর ক্যাটাগরির ব্যবসায় নতুন মাত্রায় কর বসেছে। বেড়েছে বাসাবাড়ির করও। অথচ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। ইতিমধ্যে জমি বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কর দ্বিগুণ করা হয়েছে। এমন দুর্ভোগে পড়েছে সিটি করপোরেশনে নতুন যোগ হওয়া ১২ ইউনিয়নের মানুষ। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত না করে কর বাড়ানো নিয়ে তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

সিটি করপোরেশন, ভূমি কার্যালয় ও রেজিস্ট্রার অফিস সূত্র জানায়, সাবেক পৌর এলাকার চেয়ে সিটি করপোরেশনের সীমানা অনেক গুণ বেড়েছে।

১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে ছিল পৌরসভা। এখন ২০৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড সংখ্যা ৩৩টি। এর মধ্যে নতুন যোগ হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডই এখনো গ্রাম। এসব ওয়ার্ডের বেশির ভাগই কৃষিজমি; কিন্তু সিটি করপোরেশন হওয়ায় কোনো জমিই এখন কৃষিজমি হিসেবে গণ্য হবে না। এ ছাড়া বিলুপ্ত হওয়া পৌরসভার বর্তমান কর প্রয়োগ করা হচ্ছে বর্ধিত এলাকায়।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, আগে এক শতাংশ জমির ভূমিকর ছিল সাত টাকা। সিটি করপোরেশন হওয়ার পর তা বেড়ে হয়েছে ২০ টাকা। একতলা পাকা ভবনের কর ছিল প্রতি বর্গফুট পাঁচ টাকা হারে। সিটি করপোরেশন হওয়ার পর তা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আধাপাকা বাড়ি থেকে আটতলা পাকা বাড়ির ক্ষেত্রে নতুন এ করারোপ হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। মাহিগঞ্জ এলাকার আমদানিকারক উত্তম কুমার বলেন, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে করারোপ করার নিয়ম থাকলেও রংপুর সিটির ক্ষেত্রে তা হয়নি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর ঠিকই বাড়ানো হয়েছে কিন্তু নাগরিক সুবিধা বাড়েনি।

এদিকে সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নসহ কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার আংশিক এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এসব এলাকার উন্নয়ন হয়নি। বেশির ভাগ সড়কই কাঁচা। জমিগুলো আবাদি। সড়কবাতি নেই। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও নেই।

সাবেক পরশুরাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের মানুষ হিসেবে কর তো দিতেই হবে। তবে সুযোগ-সুবিধাও বাড়াতে হবে। নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বর্ধিত এলাকার লোকজন বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ’

সিটির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর শহীদুল ইসলাম দুখু বলেন, ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে এখনো তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। একই এলাকার ভোটার নুর বানু ও গোলাপজন বলেন, ‘ভোট দিয়া কী করি! আগোত ইউনিয়ন পরিষদ থাকি ভিজিএফসহ নানান সাহায্য-সহযোগিতা পাচনো। এ্যালা তাও নাই। ’ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা হওয়ায় তাঁদের অনেকটাই ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তাঁরা। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হারাটি এলাকার রহমত আলী, নিখিল চন্দ্রসহ অনেকে বলেন, ‘বিগত দিনে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নই এখনো আমাদের সম্বল। এরপর আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। এমন সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা হতে চাইনি আমরা। ’


মন্তব্য