kalerkantho


করিমগঞ্জে ভিজিএফের চাল কেলেঙ্কারি

রাস্তা থেকে ১৩৮ বস্তা চাল জব্দ, গুদামে গরমিল

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৬ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে ১৩৮ বস্তা ‘সরকারি চাল’ পাচারকালে জব্দ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার গুনধর ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তা থেকে এসব চাল আটক করে পুলিশ।

রাতেই এগুলো থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা ঘটনাস্থলে গিয়ে এসব চাল জব্দের নির্দেশ দেন।

পরে গুনধর ইউনিয়ন পরিষদের গুদাম তল্লাশি করে যে পরিমাণ চাল থাকার কথা ছিল, সেখানে গরমিল পান ইউএনও। গুদামে যে পরিমাণ চাল থাকার কথা ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি চাল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সালমা আক্তার। তবে ঠিক কী পরিমাণ চাল গুদামে অতিরিক্ত ছিল তা জানাতে পারেননি তিনি।

এ চাল কেলেঙ্কারিতে গুনধর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল শাকির নূরু শিকদার জড়িত বলে অভিযোগ করেছে এলাকার লোকজন। তবে চেয়ারম্যান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এলাকার লোকজন বলেছে, জব্দ করা চাল ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে চেয়ারম্যানের এক আত্মীয়ের বাড়িতে মজুদ করা হয়েছিল। সুযোগ বুঝে রাতে এগুলো ট্রলি দিয়ে পাচারের চেষ্টা করা হয়।

জানা গেছে, গত বন্যায় করিমগঞ্জের অন্যান্য ইউনিয়নের মতো গুনধর ইউনিয়নও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে ৬০০ ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। তা ছাড়া সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আওতায় আসে ইউনিয়নটি।

পিআইও অফিস সূত্র জানায়, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিজনের নামে ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫০০ টাকা বরাদ্দ হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দ করা চাল ও টাকা বিতরণ না করে রেখে দেওয়া হয় গুদামে। পরে অক্টোবর মাসের বরাদ্দ করা ভিজিএফের চাল একসঙ্গে করে কয়েক দিন আগে বিতরণ করা হয়। তবে ১৮৫ জনের ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়নি। সূত্র মতে, ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে এই ১৮৫ জনের চাল থাকার কথা। কিন্তু এ চালের চেয়ে অনেক বেশি চাল পাওয়া যায় গুদামে। এতে প্রমাণিত হয়, এখানে ভিজিএফের চাল নিয়ে নয়ছয় হয়েছে।

পিআইও অফিস জানায়, মাসের বরাদ্দ মাসেই উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করতে হয়। এগুলো জমিয়ে রাখার নিয়ম নেই। তবে এসব দেখাশোনারও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকেন।   এ দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালিত হয়নি।

এলাকার একটি সূত্র জানায়, পুলিশ যে ১৩৮ বস্তা চাল জব্দ করেছে, এগুলো ভিজিএফের চাল। লোকজনকে কম দিয়ে এসব চাল ইউনিয়ন পরিষদের পাশের একটি বাড়িতে ধীরে ধীরে জমানো হয়। সেগুলোই প্রকৃতপক্ষে পাচার করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে গুনধর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল শাকির নূরু শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এসব চাল কার তিনি জানেন না। এখানে যা হয়েছে তার কোনো কিছুর সঙ্গেই তিনি জড়িত নন।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় জানান, যে ট্রলিতে ১৩৮ বস্তা চাল পাচারের চেষ্টা হয়েছিল, এগুলো সরকারি চাল। এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে রাখা ভিজিএফের চালে গরমিল থাকার অভিযোগে গতকাল সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও করিমগঞ্জের ইউএনও মাহমুদা তাঁর কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে গুনধর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল শাকির নূরু শিকদারকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন।


মন্তব্য