kalerkantho


শেখ হাসিনা সেনানিবাস প্রকল্পের অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শেখ হাসিনা সেনানিবাস প্রকল্পের অনুমোদন

ছবিঃ কালের কণ্ঠ

শেখ হাসিনা সেনানিবাস স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার।

এক হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি বরিশালের বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর দুমকী ও মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সভাকক্ষে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ৩১তম সেনানিবাস স্থাপন হবে।

গতকাল একনেক সভায় ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে তিন হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে তিন হাজার ৩১৯ কোটি এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

ভারত থেকে আরো এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করতে আরো একটি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে ভারতের বহরমপুর পর্যন্ত ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ১৮৯ কোটি টাকা।

২০১৯ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ বা পিজিসিবি।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটির আওতায় ভেড়ামারা থেকে বহরমপুর পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে ভেড়ামারায় বিদ্যমান ৪০০ ও ২৩০ কেভি উপকেন্দ্র দুটির সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

গতকাল একনেকের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, এখন থেকে শুধু গ্যাসভিত্তিক কোনো বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন না করে ডুয়েল ফুয়েল বিদ্যুেকন্দ্র তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; যদি কোনো সময় গ্যাস পাওয়া না যায় তাহলে কয়লা অথবা অন্য কোনো জ্বালানি দিয়ে যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় যা যা করা দরকার তা করতে বলেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বরিশালে সেনানিবাস স্থাপন করতে হবে—এ চিন্তা কারো মাথায় ছিল না। এমনকি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাথায়ও ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর মাথায় এ চিন্তা আসে। তিনিই একটি নতুন সেনানিবাস স্থাপনের পরামর্শ দেন। তাই তাঁর নামেই এ সেনানিবাসের নামকরণ করা হয়েছে।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে : ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দর চ্যানেলের আউটার বারে ড্রেজিং, ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে শালিখা (মাগুরা)-আড়পাড়া-কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতকরণ, ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল-লক্ষ্মীপাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ এবং ১২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর খুলনা ও যশোর জেলা ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন প্রকল্প। বরিশালে শেখ হাসিনা সেনানিবাস স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে এক হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা।


মন্তব্য