kalerkantho


২৪ ঘণ্টায় চার বাল্যবিয়ে রুখে দিল প্রশাসন

মেয়ের বয়স ১৮ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার আহ্বান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



প্রশাসন ও সচেতন মহলের নিরঙ্কুশ লড়াইয়ে কমে আসছে বাল্যবিয়ে। গত বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় তিন জেলায় চারটি বাল্যবিয়ে রুখে দিয়েছে প্রশাসন।

এর মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইলে দুটি, টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি, নারায়াণগঞ্জের সোনারগাঁয় একটি। বাল্যবিয়ের শিকার হতে যাওয়া চারটি মেয়ে স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থী। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দিচ্ছল মা-বাবারা।

গতকাল ময়মনসিংহের নান্দাইলের পৃথক দুই গ্রামে বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুর রহমান। গতকাল ছুটির দিন সুযোগ বুঝে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ইউএনওর হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাদরাসাপড়ুয়া এক ছাত্রী বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেয়েছে। টাঙ্গাইলের বাসাইলে  এক জেডিসি পরীক্ষার্থী একইভাবে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পায়।

পৃথক চার ঘটনায় খবর পেয়েই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ছুটে যান।

এরপর বাল্যবিয়ের শিকার হতে যাওয়া মেয়েদের মা-বাবাসহ স্বজনদের বুঝিয়ে বিয়ে বন্ধ করেন। পরে প্রত্যেক মা-বাবার কাছে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেন। তাঁরা যেন মেয়ের বয়স ১৮ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেন। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—

ময়মনসিংহের নান্দাইলের পৃথক দুই গ্রামে বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুর রহমান। গতকাল ছুটির দিন সুযোগ বুঝে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ইউএনও হস্তক্ষেপ করলে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুই কনের বাবা বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না বলে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল মুশুলী ইউনিয়নের পালাহার গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাহমিনা আক্তার রিয়ার বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের একটি দল ও জনপ্রতিনিধি নিয়ে দুই এলাকায় হাজির হন ইউএনও হাফিজুর রহমান। সেখানে জানতে পারেন জুমার নামাজের পর বরপক্ষের লোকজন আসবে। এ অবস্থায় পুলিশসহ ইউএনওর উপস্থিতি দেখে কেটে পড়ে কনের বাবা মা।   কিছুক্ষণ পর মেয়ের বাবা হাফিজুল ইসলাম ও মা  মাজেদা খাতুন বাড়িতে আসেন। তারা বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না বলে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন। বিয়েটি বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে রাজগাতী ইউনিয়নের উলুহাটি গ্রামে মাদরাসার সপ্তম শ্রেণিতে পড়া মাহমুদা খাতুনের বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। ইউএনও হাফিজুর রহমান সেখানে গিয়ে দেখেন, বরপক্ষের নারী অতিথিরা কনের বাড়িতে আছে। বরসহ পুরুষ অতিথিরা মসজিদে নামাজ পড়তে গেছে। ইউএনও পরিবারের কাছে জানতে চান মেয়ের বয়স কত? কিন্তু কেউ কোনো উত্তর দেয়নি। এর মধ্যে নিজেদের রক্ষা করতে দ্রুত এলাকা ছাড়ে বরপক্ষ। পরে কনের বাবা মঞ্জু মিয়া মেয়ের ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত আর বিয়ে না দেওয়ার অঙ্গীরকারনামায় স্বাক্ষর করেন।

নান্দাইল উপজেলার ইউএনও হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নান্দাইলকে শতভাগ বাল্যবিয়ে মুক্ত ঘোষণা করার লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে ছেলের  ২১ ও মেয়ের ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিয়েই গ্রহণযোগ্য হবে না। ’

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেয়েছে মাদরাসাপড়ুয়া এক ছাত্রী। তার নাম অঞ্জনা আক্তার (১৬)। গতকাল নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম বিয়ে বাড়িতে গিয়ে বিয়েটি বন্ধ করে দেন। অঞ্জনা আক্তার সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁ ইউনিয়নের টেকির চর গ্রামের মৃত নবী হোসেনের মেয়ে। সে  স্থানীয় মাদরাসায় লেখাপড়া করছে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম বলেন, ‘নোয়াগাঁ ইউনিয়নের টেকির চর গ্রামের অঞ্জনার সঙ্গে উপজেলার কুমার চর গ্রামের আফাজউদ্দিনের ছেলে আল আমিনের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। খবর পেয়ে মেয়ের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিয়েটি বন্ধ করা হয়। ’ টাঙ্গাইলের বাসাইলে লিজা আক্তার (১৪) নামে এক জেডিসি পরীক্ষার্থীর বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না। গত বৃহস্পতিবার বাসাইলের হাবলা ইউনিয়নের ঘোষাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লিজা একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। সে এবার হাবলা ছালাফিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসা থেকে জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এক জেডিসি পরীক্ষার্থী বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। এক প্রবাসীর সঙ্গে লিজার বিয়ে ঠিক হয়েছে। লিজাও বিয়ের সাজে সজ্জিত হচ্ছিল। তবে তখনো পাত্র আসেনি। এ অবস্থায় মেয়ের মা-বাবাকে বুঝিয়ে বিয়ে বন্ধ করা হয়। ’


মন্তব্য