kalerkantho


অনিয়ম ও নানা অভিযোগে শেষ ভর্তি পরীক্ষা

হাবিপ্রবিতে ফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের মধ্যেই হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা গত বুধবার শেষ হয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীরা সঠিক ফল না পাওয়ার আশঙ্কা করছে।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।

অন্যদিকে ভর্তি পরীক্ষার তিন দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সহায়িকা একটি গাইড বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রক্টর ড. খালেদ হোসেন ও আরেকজন শিক্ষকের উপস্থিত থাকার বিষয়টিও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ দুই শিক্ষকই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার নিরপেক্ষ তদন্তে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত সাতটি ইউনিটে প্রতিদিন চার শিফটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এক লাখের বেশি পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

জানা যায়, ৫ নভেম্বরের সি (বাণিজ্য) ইউনিটের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে উত্তরপত্রের ধারাবাহিকতা ছিল না। এ কারণে অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীই পরীক্ষার হলে বিপাকে পড়ে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার কানাইগাড়ী গ্রামের আব্দুল হাই সিদ্দিক, বগুড়া জেলার নন্দীগাঁও উপজেলার নন্দীগাঁও গ্রামের লক্ষ্মণ রায় ও নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল গ্রামের রঞ্জন রায়ের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।

ওই ছাত্ররা জানায়, সি (বাণিজ্য) ইউনিটের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে উত্তরপত্রের ধারাবাহিকতার প্রচুর গরমিল ছিল। এই গরমিলের কারণে তাদের মতো অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর ফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরো জানায়, তারা কমার্সে ভর্তি হওয়ার জন্য সি ইউনিটে আবেদন করে। সে অনুয়ায়ী তাদের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান, ম্যানেজমেন্ট ও অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে। কিন্তু তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে। ফলে তারা বাংলা বিষয়ে ভালো করতে পারেনি।

ভর্তি পরীক্ষায় আরেকটি অনিয়মের ঘটনা ছিল সিট প্ল্যানিং। ভর্তি পরীক্ষায় একই নামের সব ছাত্র বা একই জেলার সব ছাত্র-ছাত্রীর একই কক্ষে বসানো হয়। অথচ পরীক্ষার নিয়ম হচ্ছে, পরীক্ষার্থীদের সিট অবশ্যই র‍্যানডোমাইজড পদ্ধতিতে হবে।

এদিকে ভর্তি পরীক্ষার তিন দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে হাবিপ্রবিতে ভর্তি সহায়িকা ‘প্লাজমিড প্লাস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। গাইড বইটি করেছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই কয়েকজন ছাত্র। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. খালেদ হোসেন ও জিয়া হলের সহকারী হল সুপার ড. মো. আবু সাঈদ। অনুষ্ঠানে এ দুই শিক্ষকের উপস্থিতি ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের কার্যক্রম হিসেবে কোচিং ও গাইড বাণিজ্য বন্ধের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়ার পরও সরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ভর্তি গাইড বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় বিষয়টি সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার রেজিস্ট্রারকে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম একটি স্মারকলিপি দেয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, ভর্তি পরীক্ষার মতো এমন একটি স্পর্শকাতর জায়গায় যেভাবে সিট প্ল্যানিং করা হয়েছে তাকে ষড়যন্ত্র এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম ও শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. খালেদ হোসেন আইনবহির্ভূতভাবে ভর্তি গাইড বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়েছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।

এ ব্যাপারে প্রক্টর ড. মো. খালেদ হোসেন জানান, তিনি সাধারণ শিক্ষক হলে ওই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে যেতেন না। যেহেতু তিনি প্রক্টর এবং ছাত্ররা তাঁকে ডেকেছে, তাই তিনি সেখানে গেছেন। তবে তিনি গাইড পড়া বা ছাপানোর বিষয়ে সরকারের নীতিমালাকে সমর্থন করেন।


মন্তব্য