kalerkantho


জনবল সংকটে এমইএস ৯০০০ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব

নিখিল ভদ্র   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জনবল সংকটে এমইএস ৯০০০ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব

সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস (এমইএস) জনবল সংকটে ভুগছে। সংস্থাটির কাজের পরিধি বাড়লেও বাড়েনি সক্ষমতা।

স্থায়ী পদগুলোর মধ্যে খালি পড়ে আছে ৫৪০টি। এ অবস্থায় জনবল বাড়াতে ৯ হাজার স্থায়ী পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জাতীয় সংসদ ভবনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। পূর্ত পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমইএসের বর্তমান কাঠামোয় দুই হাজার ২০৭টি স্থায়ী পদের মধ্যে এক হাজার ৭৬৭ জন কাজ করছেন। এর মধ্যে শুধু পূর্ত পরিদপ্তরে পদ খালি নেই। কিন্তু এমইএসের (সেনা) এক হাজার ৬৩০টি পদের মধ্যে ৪১০টি, এমইএসের (নৌ) ২৪৪টি পদের মধ্যে ৬০টি, এমইএসের (বিমান) ৩৫২টি পদের মধ্যে ৭০টি পদ খালি আছে। তবে সংস্থাটিতে ওয়ার্ক চার্জড বা কন্টিনজেন্ট হিসেবে কর্মরত আছেন সেনাবাহিনীর পাঁচ হাজার ৪৬১ জন, নৌবাহিনীর এক হাজার ৭ জন ও বিমানবাহিনীর এক হাজার ৮১২ জন সদস্য। প্রস্তাবিত জনবল কাঠামোয় নতুন আট হাজার ৭৫৫টি স্থায়ী পদ চাওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ত পরিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো সময়োপযোগী করে সংশোধনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। অন্যান্য সংস্থার (এমইএস সেনা, নৌ ও বিমান) সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়টি নিজ নিজ সার্ভিস হেডকোয়ার্টারে প্রক্রিয়াধীন।

সূত্র জানায়, সামরিক নিবাস ও ঘাঁটিগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সার্বক্ষণিক পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহসহ দৈনন্দিন সব জরুরি সেবা দিয়ে থাকে এমইএস। সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম সহায়ক শক্তি হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে সংস্থাটি। আস্থা ও বিশ্বস্ততার ধারাবাহিকতায় তাদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে পদ্মা বহুমুখী সেতুর মতো উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক বহুতল ভবন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইন, গ্যাসলাইনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকেন। এসব কাজে বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এমনকি জীবনহানিও হয়ে থাকে। কিন্তু এমইএস-কর্মীদের জন্য কোনো ঝুঁকি ভাতার ব্যবস্থা নেই। চিকিৎসা সুবিধাও পর্যাপ্ত নয়। ঝুঁকি ভাতা ও চিকিৎসাসেবাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সব গ্রেডের এমইএস কর্মচারীদের আবাসিক বাসস্থানের সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ব্যারাকে অবস্থানকারীদের সুবিন্যস্ত মেসিং সুবিধা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আলোচিত প্রতিবেদনটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গুরুত্ব সহকারে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভূঁইয়া প্রতিবেদনটি বৈঠকে উপস্থাপনের কথা জানালেও অন্য বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।


মন্তব্য