kalerkantho


নান্দাইলে চালককে জবাই করে ইজি বাইক ছিনতাইয়ের চেষ্টা একদল কিশোরের

হাতেনাতে আটক ৩

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



ময়মনসিংহের নান্দাইলে এক চালককে জবাই করে তার ইজি বাইক ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালিয়েছে একদল ছিনতাইকারী। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে চালককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার এবং দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরেক ছিনতকাইকারীকে আটক করে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার পালাহার চন্দন মার্কেট এলাকার ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে।

আটককৃত ছিনতাইকারীরা সবাই উঠতি বয়সী তরুণ। তারা হলো ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার চানদোলা গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের (১৭), কিশোরগঞ্জের গাইটাল এলাকার রফিকুলের ছেলে সাগর মিয়া (১৭) এবং নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীর ইউনিয়নের মনাপাশা গ্রামের পুলিশ কনস্টেবল মো. মমিন ভুইয়ার ছেলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (১৭)। কনস্টেবল মমিন বর্তমানে নরসিংদী জেলায় কর্মরত। মোস্তাফিজুর রহমান কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয় সূত্র ও আহতের পরিবার জানায়, উপজেলার মুশলী ইউনিয়নের উত্তর মুশলী গ্রামের হাতিম আলীর ছেলে বাবু (১৮) স্থানীয় একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়েন। বাবা অসুস্থ থাকায় দরিদ্র পরিবারের সংসারের হাল ধরেন দুই ভাই। নিজেদের একটি ইজি বাইক দুজনে পালা করে চালান। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ইজি বাইকটি নিয়ে বের হন বড় ভাই বাবু। রাত ৮টার দিকে নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে চার যাত্রী রিজার্ভ নেয় তাঁদের বাড়ির কাছেই সাবেক এক চেয়ারম্যানের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে। পরে কিছু দূর যেতেই যাত্রীবেশী ওই চার যুবক ইজি বাইকটি গ্রামের একটি সড়কে ঢুকিয়ে বাবুকে ধরে মাটিতে ফেলে গলায় ছুরি চালায়। এ  সময় ধস্তাধস্তিতে ছিনতাইকারীরা গলার বেশ কিছু অংশ কেটে ফেলে দৌড় দেয়। এ অবস্থায় বাবুর চিৎকার শুনে পাশের চন্দন মার্কেটে ক্যারম খেলারত কয়েকজন ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। সেখানে বাবুকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে পাশের কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী ও আশপাশের ইজি বাইকচালকরা খবর পেয়ে এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে পাশের চন্দন মার্কেটের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঘরে আটক রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই দুই ছিনতাইকারীকে থানায় নিয়ে আসতে চাইলে জনতা বাধা দেয়। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে জনতার রোষানল থেকে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানায়, এই এলাকায় ইজি বাইক বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা অহরহ ঘটছে। সেখানে হাইওয়ে থানা থাকলেও এসব ঘটনার কোনো কূল-কিনারা করতে পারছে না তারা।

নান্দাইল থানার ওসি মো. ইউনুস আলী জানান, আটককৃত দুই কিশোর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে পালিয়ে যাওয়া দুজনকে ধরতে পুলিশ মাঠে নামে। রাতে একজনকে আটক করা গেলেও মূল হোতা আরেক কিশোরকে আটক করা যায়নি। তবে খুব শিগগির তাকে আটক করা হবে বলে তিনি জানান।


মন্তব্য