kalerkantho


ভাঙাচোরা সড়কে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ

বন্দর সংযোগ ও আগ্রাবাদ সড়কে বড় বড় গর্ত

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



ভাঙাচোরা সড়কে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ

নগরের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটার দূরে এক্সেস সড়কের পাশেই গুলবাগ আবাসিক এলাকা। এই আবাসিক এলাকার সামনে এক্সেস সড়ক ভেঙেচুরে চৌচির হয়ে গেছে।

বিশাল গর্ত, কার্পেটিং নেই, ইটও দেখা যাচ্ছে না। আছে কাদা-পানি। সড়কের চিহ্ন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। একেকটি গর্ত পার হতে বেশ সময় লাগছে যানবাহনের। গতকাল সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে এমন অবস্থাই দেখা গেল।

তখন সকাল ৯টা ২৬ মিনিট। আবাসিক এলাকার সামনে একটি ট্রাক থেকে মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে ডোবার মতো হয়ে যাওয়া এক্সেস সড়কের একটি গর্ত। কারা ভরাট করছে জানতে চাইলে মোহাম্মদ বাবুল (৫০) নামের এক ব্যক্তি একটি দোকান দেখিয়ে দিয়ে বললেন, এর মালিক নিজের টাকায় দুই ট্রাক বালু এখানে দিচ্ছেন। এখানে তো গাড়ি চলাচল করতে অনেক সমস্যা হয়।

কেউ তো ঠিক করছে না।

ওই সময় পাশের ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী শাহ আলম বলেন, ‘গত শুক্রবার দুপুরে এখান (আগ্রাবাদ এক্সেস সড়ক) দিয়ে রিকশা করে আগ্রাবাদ যাওয়ার সময় দুই মহিলা গর্তে পড়ে আহত হয়েছেন। বিকেলে এক মা তাঁর শিশুসন্তানকে নিয়ে আগ্রাবাদ যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে শিশুটি হাতে আঘাত পায়। এখানে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এটা কি সড়ক? আমাদের দোকানের সামনে এই বড় গর্ত, আমাদের মালিক নিজে টাকা খরচ করে গর্ত ভরাট করছেন। ’

গুলবাগ থেকে আগ্রাবাদের দিকে আসতে আরো আধা কিলোমিটার সড়কের অবস্থাও একই রকম। ভেঙেচুরে তছনছ অবস্থা। গোল্ডেন টার্চ নামের একটি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে কথা হয় মোহাম্মদ হানিফের সঙ্গে। ওই এলাকার বাসিন্দা এই যুবক বলেন, ‘আগ্রাবাদ এক্সেস সড়কের মানজুমা কমিউনিটি সেন্টার থেকে গোল্ডেন টার্চ পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির কারণে মানুষকে দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। দেখেন না, এখানে সড়কের কোনো চিহ্ন আছে? এখন শুধু মাটি দেখা যাচ্ছে। আমরা কিভাবে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাব?’

হালিশহর পুলিশ লাইনের সামনে থেকে আগ্রাবাদের দিকে আসার সড়কেরও বেশির ভাগ অংশ ভাঙা। কিছু কিছু স্থানে পিচ নেই, এমনকি ইটও নেই। কয়েকটি স্থানে বিশাল বিশাল গর্ত। এসব স্থানে এক দিকের যানবাহন বন্ধ রেখে অন্য পাশের যানবাহন পার করে দেওয়া হয়। চাপ থাকলে বাধ্য হয়ে চালকরা গর্তের ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যান।

মানজুমা প্যালেসের সামনে কথা হয় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আমজাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই সড়কে গাড়ি চালাতে মন চায় না। ভাড়া যখন কম থাকে তখন বাধ্য হয়ে এক্সেস রোড দিয়ে গাড়ি চালাই। অন্য এলাকার লোকজন কেউ এই রোড দিয়ে একবার আসলে আর এ পথে ফিরতে চান না। জানতে চান বিকল্প কোনো রোড আছে কি না। ’ আমজাদ তাঁর অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘প্রায় তিন সপ্তাহ আগে জোয়ারের পানি ছিল। আমি সতর্ক হয়ে আস্তে আস্তে গাড়ি চালাচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ গর্তের মধ্যে পড়ে আমার গাড়ি উল্টে যায়। যাত্রীরাও আঘাত পান। ’

আগ্রাবাদ এক্সেস সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন এমন একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হলেও তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো মাথাব্যথা নেই। ভাঙা সড়কে জোয়ারের পানিতে ডোবা হয়ে যায়। ওই সময় অনেক যানবাহন চালক এ সড়ক দিয়ে যেতে চান না। হেঁটে পার হতে হয়।

আগ্রাবাদ থেকে হালিশহরের বড়পুল এলাকা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ আগ্রাবাদ এক্সেস সড়ক। বড়পুলেই এই সড়কের সঙ্গে এসে মিলেছে চট্টগ্রাম বন্দর সংযোগ সড়ক। চট্টগ্রাম কাস্টমসের পর নিমতলা এলাকা দিয়ে বন্দর সংযোগ সড়কটি চলে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে।

গতকাল সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে নিমতলা এলাকা দিয়ে বন্দর সংযোগ সড়কের প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগই ভাঙাচোরা। যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। এ কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্যে ভাঙা ও গর্তের কারণে কয়েকটি স্থানে একমুখী যানবাহন চলছে।

নিমতলা থেকে অলংকার পর্যন্ত ওই সড়ক ঘুরে দেখা যায়, ধুলোবালিতে একাকার। ভাঙা স্থান এলে তা এড়িয়ে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করছেন চালকরা।

বন্দর সংযোগ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।

সকাল ৯টার দিকে কথা হয় রফিক আহম্মদ নামের বড়পুলের এক বাসিন্দার সঙ্গে। তিনি বললেন, ভাঙা এই সড়কের কারণে বিভিন্ন স্থানে যানজট লেগেই থাকে। দীর্ঘদিন ধরেই এ অবস্থা চলছে। তিনি বলেন, ‘আগের মতো বৃষ্টি হচ্ছে না। কিন্তু এখনো পোর্ট কানেকটিং সড়ক মেরামতের কাজ শুরু হয়নি। আমাদের অনেক কষ্ট হয় সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে। ’

নিমতলা বিশ্বরোড থেকে বড়পুল, বড়পুল চৌরাস্তার মোড়, হালিশহর সিটি কমার্স কলেজ গেটের সামনের সড়কের দুই পাশে, সরাইপাড়া, সাগরিকা চৌরাস্তার মোড় ও অলংকার এলাকায় বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভাঙাচোরা। এসব সড়কে মানুষ প্রতিদিনই অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তবে অলংকার থেকে সিটি গেট পর্যন্ত সড়ক কার্পেটিং হয়েছে সম্প্রতি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখনো কয়েক দিন পর পর বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর ভাঙাচোরা সড়কগুলো স্থায়ী মেরামতের কাজ শুরু হবে। এখন জরুরিভাবে অস্থায়ী মেরামতের কাজ চলছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আগামী পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে স্থায়ী মেরামতের কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যে সিটি গেট থেকে একে খান মোড় ও অলংকার পর্যন্ত বন্দর সংযোগ সড়কে স্থায়ী মেরামতের কাজ হয়েছে। ’


মন্তব্য