kalerkantho


ইরাবতীর বিশ্লেষণ

অভ্যুত্থান আশঙ্কায় দেশ ছাড়েননি সু চি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



অভ্যুত্থান আশঙ্কায় দেশ ছাড়েননি সু চি

ছবি: ইন্টারনেট

মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি বা সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কার কারণেই স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি গত মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে যাননি। দেশটিতে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এখনো নেপিডোতে সামরিক অভ্যুত্থানের গুজব আছে।

মিয়ানমারের ইরাবতী পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে গতকাল সোমবার প্রকাশিত ‘সু চি কেন সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাননি?’ শীর্ষক বিশ্লেষণে এ কথা বলা হয়েছে।

সু চি গত মাসে যখন তাঁর সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ হেনরি ভান থিওকে জাতিসংঘে বক্তব্য দিতে পাঠান তখন সমালোচনা হয়েছিল যে রাখাইন পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্ন এড়াতেই তিনি এ কৌশল নিয়েছেন। তবে সরকারের ভেতরের সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে ইরাবতীর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের ভেতরই সু চির জন্য আরো জোরালো চাপ ছিল। রাখাইন রাজ্যে সংকট শুরুর সময় থেকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও ব্যাংককে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেশটির জেনারেলরা রাখাইনে অভিযান শুরুর পাশাপাশি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও বিদেশে থাকা অবস্থায় সু চি নিউ ইয়র্কে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক জেনারেল মিন্ট সুয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পেতেন। আর এ সুযোগে সেনাবাহিনী রাখাইনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারত।

ইরাবতীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রথম দিন থেকেই সু চি রাখাইন রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারির বিরোধী ছিলেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ট সুয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল থেইন সেইনের প্রশাসনে ইয়াঙ্গুনের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।

সিনিয়র জেনারেল থান সুয়ের আমলের কট্টরপন্থী সামরিক কর্মকর্তা হিসেবেও তিনি পরিচিত।

বিপজ্জনক পরিস্থিতি বুঝতে পেরেই সু চি নিউ ইয়র্কে যাননি। এর বদলে তিনি রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি নিয়ে কূটনীতিকদের ইংরেজি ভাষায় ব্রিফ করেছেন। একই সঙ্গে সু চির ওপর বৈশ্বিক চাপের নিন্দা জানিয়ে বড় শহরগুলোতে তখন মিছিল হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেও সু চি তাঁর পূর্ব নির্ধারিত প্রাগ সফর বাতিল করেছেন। এর পরিবর্তে তিনি ব্রুনেইয়ের সুলতানের সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে গেছেন। সেখানে রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানো কয়েকজন আসিয়ান নেতার সঙ্গেও তাঁকে দেখা গেছে। আসিয়ানের ফিলিপিনো চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে বিবৃতি দেন তাতে বাস্তব পরিস্থিতির ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে ওই বিবৃতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিল মালয়েশিয়া।

ইরাবতীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মিয়ানমারের ২০০৮ সালের সংবিধান অনুযায়ী সেনাবাহিনী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারে। তবে তার একটি প্রক্রিয়া আছে। কেবল রাষ্ট্রপতিই সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সর্বাধিনায়ক ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ ও সমন্বয় করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে থাকেন। ওই ঘোষণা যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কাউন্সিলের কাছে উপস্থাপন করতে হয়। এখানে উল্লেখ্য, বর্তমানে মিয়ানমারে ওই কাউন্সিলের বৈঠক নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় না।

এখানে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্নিংয়ের সার্বভৌম ক্ষমতা আছে। তবে জরুরি অবস্থার মেয়াদ ছয় মাস বা তার বেশি করতে হলে তাঁকে জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কাউন্সিলের অনুমোদন নিতে হয়। এরপর তাঁকেও পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশনে বিষয়টি জানাতে হয়।

ইরাবতীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি বা জরুরি পরিস্থিতির ক্ষেত্রে এমনটি দেখা যেতে পারে। কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এখনো মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের গুজব আছে। স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্নিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে—এ কথা জেনেই চীন, ভারত ও মিয়ানমারের অন্য ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীরা নেপিডোতে চলমান ক্ষমতার প্রতিযোগিতা পর্যবেক্ষণ করছে।


মন্তব্য