kalerkantho


ভয়েস অব আমেরিকায় প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে গণতন্ত্র আমরা এনেছি, অব্যাহত রেখেছি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশে গণতন্ত্র আমরা এনেছি, অব্যাহত রেখেছি

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দেশে একের পর এক ক্যু হয়েছে। ১৯টা ক্যু হয়েছে।

... মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তারাই নির্বাচন প্রক্রিয়াটাকে ধ্বংস করে। আমরা দিনের পর দিন আন্দোলন-সংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক ধারাটা আবার ফিরিয়ে এনেছি। আজ নির্বাচন যত সুষ্ঠু হচ্ছে, মানুষ ভোট দিতে পারছে—এটা আমাদের অবদান। মানুষ তার পছন্দমতো লোককেই নির্বাচন করবে। আমরা সেটাই চাই। নির্বাচন প্রক্রিয়া আমরাই উন্নতি করেছি। আজকে যতটুকু সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে এটা কাদের অবদান? আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব, এটা আমারই দেওয়া স্লোগান। নির্বাচন প্রক্রিয়ার যতটুকু উন্নতি দেখেন, সেটা আমাদের সরকারই করেছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে কাজ করেছি, তাতে যদি জনগণ খুশি হয় ভোট দেবে, না হলে দেবে না। যা দেবে তা-ই আমরা মেনে নেব। নির্বাচন কমিশন এখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, নিরপেক্ষ হবে। ’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘আমার কথা স্পষ্ট, যারা মিয়ানমার থেকে এসেছে তাদের সসম্মানে ফিরিয়ে নিতে হবে। তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং তারা যেন ভালোভাবে ফিরে যেতে পারে—সে ব্যবস্থা করতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমার সরকারের ওপর যেন সেই চাপটা দেওয়া হয়, যেন তারা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ’

মিয়ানমার ইস্যুসহ আরো অনেক বিষয় জাতিসংঘের ভাষণে বলেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আরো কয়েকটি পয়েন্টে কথা বলেছি। আমি বলেছি, কফি আনানের নেতৃত্বে যে কমিশন, সে কমিশনের সুপারিশগুলো তারা (মিয়ানমার) যেন মেনে নেয়। মিয়ানমার সরকারকে আমি একটি কথা বলতে চাই, তাদের দেশে কেউ যদি কখনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে চায়, বাংলাদেশ কখনো তাদের স্থান দেবে না। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে একটা সমঝোতা থাকা দরকার। ’

জাতিসংঘে গিয়ে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন, অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে, কাদের পক্ষ থেকে এই ইস্যুতে বেশি সমর্থন পাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রত্যেকের কাছ থেকেই ভালো সমর্থন পেয়েছি। সবাই সহযোগিতা করতে চান। ’

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কেমন সহযোগিতা পাচ্ছেন—জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারাও এ ব্যাপার নিয়ে চিন্তিত। তারাও বলেছে, এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে। ইতিমধ্যে তারা বেশ কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে। ’

ট্রাম্পের সঙ্গেও তো কথা হয়েছে—এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা স্মিত হেসে বলেন, ‘আসলে ওটা তো ছিল একটা সৌজন্য সাক্ষাৎ। সেখানে তো খুব বেশি ইস্যু নিয়ে কথা হয় না। ’

ভারত ও চীনের সহযোগিতা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তো আমার দেখাই হলো। প্লেনে যখন ছিলাম তখন পাশাপাশি ছিলাম। তারা খুবই সহানুভূতিশীল। তারা আমাদের সহযোগিতা করছে। চীনের কাছ থেকেও আমরা এ ধরনের সহযোগিতাই পাচ্ছি। ’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সহযোগিতার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে দেখা করে এলাম। তিনি বলেছেন, এ ব্যাপারে তাঁদের যা যা করা প্রয়োজন, তাঁরা তা করবেন। অন্যান্য সংস্থাও সহযোগিতা করছে। আপনি জানেন অনেক বড় বড় দেশও দরজা বন্ধ করে দিয়েছে, রিফিউজি নিতে চায়নি। আপনি জানেন আমরা হয়তো অত বড়লোক নই, কিন্তু আমাদের হৃদয়টা অনেক বড়। ’

অং সান সু চির সঙ্গে সরাসরি কোরো যোগাযোগ হয়েছে কি না—জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘না, এখন পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ হয়নি। ’

জঙ্গিবাদ দমনের বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনোভাবেই আমরা জঙ্গিবাদ মেনে নিতে পারি না। এ ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স। জঙ্গিবাদে কারা অস্ত্র ও অর্থ জোগান দিচ্ছে, ট্রেনিং দিচ্ছে তাদের বের করতে হবে। কোনো দেশে কোনো সমস্যা থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি ওআইসিকেও বলেছি। আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। ’

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প সরকারের অভিবাসন নীতি ও বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এখানে আছে, তারা কিন্তু অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখছে, এটা যুক্তরাষ্ট্রের মনে রাখা দরকার। ’

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলায় একটা কথা আছে, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলু খাগড়ার প্রাণ যায়। আমাদের অবস্থা অনেকটা তাই। এখানে বড় বড় দেশগুলো তাদের শক্তির মহড়া দিচ্ছে। আমাদের দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে আমরা চিন্তিত। তাদের কিভাবে খাবার দেব, শিক্ষা দেব, চিকিৎসা দেব, বাসস্থান দেব, আমরা এসব চিন্তায় ব্যস্ত। আমরা কোনোভাবেই এসব যুদ্ধের মহড়া চাই না। ’


মন্তব্য