kalerkantho


ইস্তাম্বুলে ন্যায়পাল সম্মেলনে প্রাধান্য পাবে রোহিঙ্গা ইস্যু

এক লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয়কেন্দ্র করবে তুরস্ক

রেজাউল করিম    

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ইস্তাম্বুলে ন্যায়পাল সম্মেলনে প্রাধান্য পাবে রোহিঙ্গা ইস্যু

ফাইল ছবি

তুরস্কে আজ সোমবার শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ন্যায়পাল সম্মেলন। ‘ইস্তাম্বুল ইন্টারন্যাশনাল ওম্বাডসম্যান কনফারেন্স’ নামে এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা—ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মানবাধিকার কমিশনের প্রধানরা।

এই সম্মেলনে এবার রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে জোরালো আলোচনা হবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এবারের সম্মেলনে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মানবাধিকার কমিশন ও ন্যায়পাল নিয়ে গঠিত ‘অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন ওম্বাডসম্যান অ্যাসোসিয়েশন’-এর পরিচালনা সংসদের প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মানবাধিকার কমিশন নিয়ে গঠিত অ্যাসোসিয়েশন অব মেডেটারিয়ান ওম্বাডসম্যানের (এওএম) নির্বাহী ও পরিচালনা পর্ষদের সভাও অনুষ্ঠিত হবে। এসব সভায়ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ থেকে এবারের এসব সভায় অংশ নিচ্ছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। গতকাল রবিবার ভোরে তিনি ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। যাওয়ার আগে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবারের এই সম্মেলনটি একটি বিশেষ সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যু হলো এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আলোচিত। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

রোহিঙ্গাদের সমস্যা নিয়ে ওআইসিভুক্ত দেশগুলো নানা সময় নানা আলোচনা করলেও এবারের আলোচনা হবে বেশ তাত্পর্যপূর্ণ। কারণ একসঙ্গে ৫৭টি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা থাকছেন এই সম্মেলনে। চলমান রোহিঙ্গা ইস্যুই এখন মুসলিম দেশগুলোর কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা। ফলে এটিই প্রাধান্য পাবে সম্মেলনে। ’

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, এটি সাধারণত ইস্তাম্বুলের মানবাধিকার কমিশনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। তুরস্কের ন্যায়পাল ওই দেশের মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব পালন করে থাকে।

কাজী রিয়াজুল হক জানান, সম্মেলনের পাশাপাশি এবার ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মানবাধিকার কমিশনের দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার আলাদা দুটি গুরুত্বপূর্ণ সভাও রয়েছে। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনগুলো রোহিঙ্গা ইস্যুতে কি ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে এসব সভায় দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা হবে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে ওআইসিভুক্ত দেশগুলো কিভাবে কাজ করবে, তারও নির্দেশনা ও পরামর্শ আসবে সম্মেলন থেকে।

‘ইস্তাম্বুল ইন্টারন্যাশনাল ওম্বাডসম্যান কনফারেন্স’-এর ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, আজ সকালে সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বক্তব্য দেবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, তুরস্ক পার্লামেন্টের স্পিকার ইসমাইল খারমান ও তুরস্কের ন্যায়পালের প্রধান শেরেফ মালকু। এ ছাড়া  আরো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব রয়েছে প্রথম দিনের সম্মেলনে।

এক লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করে দেবে তুরস্ক : মিয়ানমারে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে এক লাখের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করে দেবে তুরস্ক সরকার। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তুরস্কের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতাবিষয়ক সংস্থার সমন্বয়ক আহমেদ রফিক এ কথা জানান।

আহমেদ রফিক বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকবে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করে দেবে তুরস্ক। রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণের জন্য তুরস্ক শিগগিরই ১৩ ধরনের পণ্যের সমন্বয়ে করা ১০ হাজার প্যাকেট ত্রাণসামগ্রী দেবে।

এ ছাড়া তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রী রিসেপ আব্বাস বাংলাদেশ সফর করবেন বলেও ত্রাণমন্ত্রীকে জানান সে দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতাবিষয়ক সংস্থার সমন্বয়ক।

আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের স্থান, ত্রাণ হস্তান্তরের সময় ও তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রীর সফর কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয় ওই বৈঠকে। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিষয়টিকে অমানবিক উল্লেখ করে দ্রুত এর সমাধান আশা করেন মায়া ও রফিক। রোহিঙ্গা নিয়ে সরকারের মনোভাব ও অবস্থান সম্পর্কে তুরস্কের প্রতিনিধিকে অবহিত করেন মন্ত্রী।


মন্তব্য