kalerkantho


সারা দেশের আইনজীবীদের জন্য বার কাউন্সিল

১৫ তলা নতুন ভবনের নকশা সুপ্রিম কোর্টে

এম বদি-উজ-জামান    

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বর্তমান ভবন ভেঙে সেখানে ১৫ তলা ভবন নির্মাণ সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অনুমোদনের পর এই ভবনের নকশা সুপ্রিম কোর্টের কাছে পাঠিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

গত ৭ সেপ্টেম্বর এসংক্রান্ত ফাইল পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টে। সুপ্রিম কোর্টের অনাপত্তির জন্য আইন মন্ত্রণালয় এ নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিদেশ সফরে থাকায় তিনি দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে। তবে প্রধান বিচারপতি দেশে ফেরার আগেই ভবনের নকশাসহ যাবতীয় বিষয়ে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে রাখবে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এ ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে দেশের ৫০ হাজার আইনজীবীর বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে চলেছে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (বিচার ও প্রশাসন) মো. সাব্বির ফয়েজ কালের কণ্ঠকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) এসংক্রান্ত ফাইল রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ে এসেছে। এ বিষয়ে মতামতের জন্য পূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর তা প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হবে।

নতুন ভবনের নকশা সুপ্রিম কোর্টের কাছে পাঠানোর বিষয়ে বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, এই ভবন আইনজীবীদের বহুদিনের প্রত্যাশার ফসল।

এ জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করছি, প্রধান বিচারপতির অনুমোদনের পর সরকার দ্রুত অর্থ বরাদ্দ দেবে। এরপর আগামী নভেম্বরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারব বলে প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের কাছে এখন যে নকশা এসেছে তা করার আগেই আমরা প্রধান বিচারপতির অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু প্রধান বিচারপতি আমাদের প্রস্তাবিত ভবনের উপগ্রহ মানচিত্র, স্থানিক নকশা এবং স্থাপত্য নকশা তৈরি করে উপস্থাপন করতে বলেন। এ কারণে আইন মন্ত্রণালয় নকশার কপি সুপ্রিম কোর্টের কাছে পাঠিয়েছে। এখন আশা করি প্রধান বিচারপতি দ্রুত অনুমোদন দিয়ে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। ’

বার কাউন্সিলের ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার পর এ বিষয়ে একটি নকশা করে তা সুপ্রিম কোর্টের কাছে পাঠানো আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে বড় ধরনের অগ্রগতি। এ জন্য আইনজীবীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, সরকারি পর্যায় থেকে অর্থ বরাদ্দ, প্রকল্প অনুমোদন, নকশা অনুমোদনসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে প্রথামাফিক প্রধান বিচারপতির অনাপত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টে ফাইল পাঠানো হয়েছে। এটা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বানের মধ্য দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।

২০১৫ সালের ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিল নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে ১১টিতে জয়ী হন সরকার সমর্থক আইনজীবীরা। নিয়ম অনুসারে ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার। এরপর আইনজীবীদের সুবিধার্থে সরকারি খরচে ১৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য গত বছর ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন বার কাউন্সিল নেতারা। এর আগে আইনমন্ত্রীর কাছেও বার কাউন্সিল নেতারা লিখিত দাবি জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আইনজীবীদের কল্যাণে ভবন নির্মাণের আবেদনে সাড়া দিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণে কার্যকর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এরপর গত বছর আগস্টে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই নির্দেশনামা পাঠানো হয় আইন মন্ত্রণালয়ে। এরপর আইন মন্ত্রণালয় যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অনুমোদনের পর ১৫ তলা ভবনের একটি নকশা সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়েছে।


মন্তব্য