kalerkantho


জঙ্গি কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগ

স্পেনে মালিক, বাংলাদেশে ওয়ামির ১১ কর্মী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



স্পেনে মালিক, বাংলাদেশে ওয়ামির ১১ কর্মী গ্রেপ্তার

জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে গতকাল র‌্যাব বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রথমবারের মতো গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও স্পেনে একসঙ্গে অভিযান চালিয়ে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে অর্থায়নে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, তাদের মধ্যে স্পেনে গ্রেপ্তার করা আতাউল হক সবুজ একটি বেসরকারি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং জঙ্গিদের অর্থায়নের হোতা।

বাকি ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে। তাঁরা ওয়ামি টেকনোলজি নামের একটি সফটওয়্যার কম্পানির কর্মী।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, আতাউল হক সবুজ স্পেনে আইসিংকটেল নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। তিনি আইসিংকটেল থেকে বাংলাদেশে ওয়ামির মাধ্যমে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করতেন। সবুজের স্ত্রীও স্পেনে বসবাস করেন। তাঁর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে সে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গতকাল শনিবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘যখন জঙ্গিবাদের অর্থায়নে জড়িত সন্দেহে স্পেনে এক বাংলাদেশি চিহ্নিত করা হয় তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে স্পেনের গোয়েন্দা সংস্থার সাথে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাবের গোয়েন্দা ইউনিট যোগাযোগ করে। বাংলাদেশ ও স্পেনের দ্বিপক্ষীয় গোয়েন্দা তথ্যের কারণে এই সফলতা অর্জন করা সম্ভবপর হয়েছে, যেটা গোয়েন্দা সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনার যোগ্য। ’

র‌্যাব জানায়, জঙ্গিদের অর্থায়নের উেসর দিকে নজর রাখছিল র‌্যাব।

এর মধ্যেই তারা জানতে পারে, ওয়ামি টেকনোলজি নামের একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে জঙ্গিদের অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত। পরে র‌্যাব-৪-এর একটি দল গত শুক্রবার বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহীতে অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে। ঢাকার মিরপুর থানার পল্লবীর ই-২ নম্বর রোডের ১৫০ নম্বর বাড়িতে ওয়ামি টেকনোলজির অফিস থেকে আটজন, রাজশাহী থেকে একজন এবং খুলনা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১১টি ল্যাপটপ, ১২টি মোবাইল ফোনসেট, সাতটি কার্ড পাঞ্চিং মেশিন এবং পাসপোর্টসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ও নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

বাংলাদেশে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হেলাল উদ্দিন (২৯), আল আমিন (২৩), ফয়সাল ওরফে তুহিন (৩৭), আল মামুন (২০), আল আমিন (২৩), আমজাদ হোসেন (৩৪), মঈন খান (৩৩), তাজুল ইসলাম ওরফে শাকিল (২৭), মো. নাহিদ (৩০), টলি নাথ (৪০) ও জাহেদুল্লাহ (২৯)। এর মধ্যে তাজুল ইসলাম ও টলি নাথকে খুলনা এবং নাহিদকে রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজধানী থেকে।

মুফতি মাহমুদ খান জানান, সবুজের ভাই সিফুল হক সুজন বাংলাদেশে ২০০৫ সালে আইব্যাক নামের একটি সফটওয়্যার কম্পানি গড়েছিলেন, যা ২০১৫ সালে জঙ্গি অর্থয়নের অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যে আইব্যাকের প্রধান কার্যালয়ও বন্ধ করে দেয় সে দেশের কর্তৃপক্ষ। পরে সবুজ স্পেনে গিয়ে আইসিংকটেল চালু করে ওয়ামির মাধ্যমে জঙ্গিদের অর্থায়ন করতে থাকেন।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই আগে আইব্যাক লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। অইব্যাক বাংলাদেশসহ ৯টি দেশে পরিচালিত হতো। এর চেয়ারম্যান ছিলেন সিফুল হক সুজন, যিনি সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর সিরিয়ায় বিমান হামলায় নিহত হন।

র‌্যাবের কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘ওয়ামির নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে আইসিংকটেল ওয়ামির অনুকূলে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়ে আসছিল। পাঠানো অর্থের ৪৭ ভাগ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানা যায়। অবশিষ্ট অর্থ অইব্যাক লিমিটেডের মতো ব্যবসার অন্তরালে জঙ্গিবাদে ব্যবহৃত হয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে প্রতীয়মান হয়। ’


মন্তব্য