kalerkantho


রোহিঙ্গাদের ত্রাণের ট্রাক উল্টে নিহত ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রোহিঙ্গাদের ত্রাণের ট্রাক উল্টে নিহত ৯

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বড় ছনখোলা রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার পথে ‘বড় ছড়া কালভার্ট’ ভেঙে ট্রাক উল্টে গিয়ে তিন কিশোরসহ ৯ শ্রমিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ১২ জন।

তাদের নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বিজিবির চাকঢালা সীমান্ত চৌকি (বর্ডার আউট পোস্ট—বিওপি) সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে ওই ত্রাণ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। হতাহতদের পরিবারকে তাত্ক্ষণিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ছালামি পাড়ার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (১৮), আবু আবদুল্লাহ (১৬), ঘিলাতলির মামুনুল হাকিম (১৭), ছালামি পাড়ার ছুরুত আলম (৩৫), ছৈয়দুল আমিন (২৬), বাগান ঘোনার জলিল আহমদ (৪০), ঠাণ্ডাঝিরির আবদুল মাবুদ (৪০), সুলতান আহমদ (৫৪) ও বড়ুয়া পাড়ার সুদর্শন বড়ুয়া (৪৫)।

আহতদের মধ্যে ঠাণ্ডাঝিরি গ্রামের আজিজুর রহমানের (৩৫) অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে ৫০০ রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণসামগ্রী দুটি ভাড়া করা ট্রাকে বোঝাই করে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক দুর্ঘটনায় পড়ে।

এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত হয়। উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায় আরো তিনজন।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বান্দরবান ইউনিট সেক্রেটারি এ কে এম জাহাঙ্গির জানান, দুর্ঘটনায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কোনো কর্মকর্তা বা স্বেচ্ছাসেবী হতাহত হননি। নিহতরা সবাই নাইক্ষ্যংছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা। দুর্গম পাহাড়ি পথে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ত্রাণসামগ্রী বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদেরকে ত্রাণবোঝাই ট্রাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি এ এইচ এম তৌহিদ কবির জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহগুলো নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একজন কর্মকর্তা জানান, বড় ছনখোলা রোহিঙ্গা শিবিরের ৫০০ পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য একটি বস্তায় ৫০ কেজি করে ত্রাণসামগ্রী ছিল। প্রতি ট্রাকে ২৫০টি করে বস্তা এবং ২১ জন করে শ্রমিক ছিল।

ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অলি বকশি মাঠ পাড়া কেন্দ্রের পাড়াকর্মী তসলিমা আক্তার জানান, রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণবাহী দুটি ট্রাক সকাল ৮টার দিকে ওই এলাকা অতিক্রম করতে তিনি দেখেছেন। এর মধ্যে একটি ট্রাক ‘বড় ছড়া’ কালভার্ট পার হওয়ার পর অন্যটি কালভার্টের পশ্চিম অংশ অতিক্রমকালে কালভার্টটি ধসে যায়। এতে ত্রাণবাহী দ্বিতীয় ট্রাকটি ধানক্ষেতে ছিটকে পড়ে উল্টে যায়। তখন ট্রাকের ওপরে থাকা শ্রমিকরা ট্রাক ও ত্রাণের বস্তার নিচে চাপা পড়ে। তসলিমা আক্তার আরো জানান, ঘটনার পর পর তিনি চাকঢালা বিওপির সুবেদার অসিত কুমার নন্দীকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেখেন। বিওপির অন্য বিজিবি জওয়ানদের নিয়ে সুবেদার অসিত উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

এদিকে ত্রাণবাহী ট্রাক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা জানতে পেরে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শে সিং ঢাকা থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি ছুটে আসেন। তিনি হতাহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, বিজিবির ৩১ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আনোয়ারুল আযীম, নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম সারওয়ার কামাল, সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তাসলিম ইকবাল চৌধুরী তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেকের পরিবারকে ৩০ কেজি করে চালও দেওয়া হয়েছে।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বান্দরবান ইউনিট সেক্রেটারি এ কে এম জাহাঙ্গির জানান, হতাহতের এ ঘটনা তাঁদের মর্মাহত করলেও এ ঘটনা সীমান্তের জিরো লাইনের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।


মন্তব্য