kalerkantho


ইসির সঙ্গে সংলাপে ড. কামাল

সরকার ও প্রশাসনকে নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ থাকতে হবে

বিশেষ প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



‘নির্বাচনের সময় যে সরকার ও প্রশাসন থাকবে তাদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে। প্রশাসনকে প্রভাবমুক্ত রাখা হচ্ছে একটি চ্যালেঞ্জ।

ইসিকে এ বিষয়ে চিন্তা করতে বলেছি। প্রশাসনকে কিভাবে নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে তা আলোচনা করেই নির্ধারণ করতে হবে। ’

গতকাল বুধবার বিকেলে নিজ দল গণফোরামের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকার আইনকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করায় সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। তখন সংবিধান সংশোধন করে নিরপেক্ষ বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার করা হয়েছিল। এখন উচ্চ আদালতের রায়ের ফলে দলীয় সরকারই নির্বাচনের সময় থাকবে। এ সমস্যাটা ইসির কাছে তুলে ধরেছি।

এর আগে সকালে কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে গণফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন করে সংসদে এ যাবৎ প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল পিপলস্্ পার্টির (এনপিপি) সঙ্গে সংলাপ হবে।

ড. কামাল হোসেন গতকাল আরো বলেন, ‘দুই এমপির জন্য পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি ধ্বংস হয়েছে। এ দুই এমপি হচ্ছে মাসল পাওয়ার ও মানি পাওয়ার। এ দুই শক্তি আমাদের গণতন্ত্রকে আঘাত করেছে তা আমরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি গত ৪৬ বছরে। দুই এমপি থেকে জনগণ তাদের ভোটাধিকার কিভাবে বাঁচাতে পারে, তার জন্যে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সংলাপে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ’

কামাল হোসেন আরো বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু রাজনীতি প্রয়োজন। বিভাজনের রাজনীতির কারণে প্রবলেম সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আমরা বুঝি বলেই জনগণের ঐক্যের ডাক দিয়েছি। দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র থাকবে। কিন্তু সংবিধানের মূল্যবোধ থেকে মৌলিক বিষয় যেমন আইনের শাসন, গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা—এসব বিষয়ে কোনো বিভাজন চাই না। ’

ভোটে সেনাবাহিনী মোতায়েন চান কি না—এ প্রশ্নে গণফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী পুনর্বহাল করতে বলা হয়েছে। যখনই প্রয়োজন হবে তখনই সেনা মোতায়েন করতে হবে। সশস্ত্র বাহিনী ইসির নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

সংলাপে গণফোরামের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয় এবং ২২ দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে প্রবাসীদের ভোটাধিকার, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি, কালো টাকার খেলা বন্ধ, ঋণখেলাপিদের জামিনদারকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, নির্বাচনে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ এবং সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

গণফ্রন্টের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল সংলাপে অংশ নেয়। দলটি নির্বাচনের সময় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে সরকার গঠন, ভোটগ্রহণে সেনা মোতায়েন, ইভিএম চালু, ধর্মবিরোধী দলের নিবন্ধন বাতিল, সংসদীয় আসন আরো ১৫০টি বাড়ানোসহ বিভিন্ন প্রস্তাব রাখে।

দলের চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান, তাঁদের সুপারিশের অন্যতম হচ্ছে সংবিধান সংশোধন করে হলেও (তত্ত্বাবধায়ক নয়, অরাজনৈতিক সরকার নয়) একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। ৮৮, ৯৬ এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচন বাদে স্বাধীনতার পরে যেসব নিবন্ধিত দলের সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল তাদের সমন্বয়ে একটি সরকার গঠন করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সমঝোতার মাধ্যমে সে সরকারের প্রধান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের কেউ জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

অন্যসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন, নাম ও প্যাডসর্বস্ব এবং অফিসবিহীন রাতারাতি গড়ে ওঠা অনিবন্ধিত দলগুলো যাতে নিবন্ধিত দলের সঙ্গে জোট করতে না পারে এ জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন, নির্বাচনের অন্তত ছয় মাস আগে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রধানের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া, সীমানা পুনর্বিন্যাস করার জন্য আইনি কাঠামো সংস্কার, সংসদের আসনসংখ্যা বাড়িয়ে ৩৫০ অথবা ৪৫০টি করা।


মন্তব্য