kalerkantho


নিউ ইয়র্কে সংবর্ধনায় শেখ হাসিনা

আগামী নির্বাচন বিরাট চ্যালেঞ্জ ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে হবে

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আগামী নির্বাচন বিরাট চ্যালেঞ্জ ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে হবে

নিউ ইয়র্কের একটি হোটেলে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রপ্রাবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ প্রয়োজনে এক বেলা খেয়েও নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবে, কিন্তু এই শরণার্থীদের যে ফিরিয়ে নিতে হবে, সে কথা মিয়ানমারকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে নিউ ইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সংবর্ধনাসভায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিয়ানমারকে আমরা বলেছি, আপনাদের নাগরিক, তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতেই হবে।

তাদেরকে নিরাপদ রাখতে হবে। তাদের আশ্রয় দিতে হবে। তাদের ওপর জুলুম-অত্যাচার চলবে না। ’

ম্যানহাটানের ম্যারিয়ট হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে জনাকীর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের (মিয়ানমার) ওপর যেন চাপ সৃষ্টি হয়। তাদের নাগরিক তারা ফেরত নিয়ে যাবে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে। সেটাই আমরা চাই। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে দুর্ভাগ্য যে মিয়ানমারে যে ঘটনা ঘটেছে, হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, মেয়েদের ধর্ষণ করা—এমন পরিবেশ-পরিস্থিতি যেখানে সৃষ্টি হয়েছে, সেখান থেকে দলে দলে মানুষ এসেছে, আমরা কী করব? মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিতে হয়েছে। ’

কক্সবাজারে গিয়ে নিজের চোখে রোহিঙ্গাদের এই দুর্দশা দেখে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সেখানে গিয়েছিলাম।

তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার কেবল নিজেদের কথা মনে হয়েছে। আমরাও তো একদিন এইভাবে ওই হানাদার পাকিস্তানিদের কারণে এ ঘর থেকে ও ঘরে, আমাদের আশ্রয় খুঁজে বেড়াতে হয়েছে। আমাদের ঘড়বাড়ি সব জ্বালিয়ে ছারখার করেছে। সমগ্র বাংলাদেশে আমাদের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ, তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে। মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমাদের দেশের মানুষও তো আশ্রয় নিয়েছিল। ভারতে প্রায় এক কোটি শরণার্থী ছিল। আজকে যখন তারা বিপদে পড়েছে, অবশ্যই তাদের জায়গা দিতে হবে। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন করেছে, এত মানুষের খাবার দেবেন কিভাবে? আমি তাদের একটা কথাই বলেছি, ১৬ কোটি মানুষ আমাদের। এই ১৬ কোটি মানুষকে যদি খাবার দিতে পারি, তাহলে এই সাত-আট লাখকে খাবার দিতে পারব না?’

বাংলাদেশের মানুষকে ‘অনেক উদার’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজনে তারা এক বেলা খাবে। অন্য বেলার খাবার এই আশ্রিত মানুষকে তুলে দেবে—সেই মানসিকতা তাদের আছে। আমরা সেখানে লঙ্গরখানা খুলে দিয়েছি; চিকিৎসা, থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কিন্তু মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতেই হবে। ’

শেখ হাসিনা বলেন, কোনো দেশে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটুক, তা বাংলাদেশ চায় না। বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে প্রতিবেশী কোনো দেশে কাউকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হবে না—সরকার তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই। দেশের মানুষের কল্যাণ চাই। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন আমরা করতে চাই। কাজেই সকলের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে, প্রতিবেশীদের সাথে যোগাযোগ সমুন্নত রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা, আমরা সেই ব্যবস্থা নিতে চাই। ’

রোহিঙ্গা বিষয়ে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আজকে জাতিসংঘে যাদের সঙ্গেই দেখা হচ্ছে, প্রত্যেকেই কিন্তু এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। মঙ্গলবারই জাতিসংঘে ওআইসির এক বৈঠকে আমি প্রশ্ন রেখেছি, আজকে মুসলমানরা কেন রিফিউজি হয়ে ঘুরে বেড়ায়? আপনারা সকলে কেন এক হন না? কেন সকলে ঐক্যবদ্ধ হন না?’

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন খাতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের উন্নতি চাই। আর তারা মানুষকে পুড়িয়ে মারে। ধ্বংসাত্মক কাজ ছাড়া তারা আর কিছুই করতে পারে না। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া যদি এতিমদের টাকা মেরে না খেয়ে থাকেন তাহলে আদালতে গরহাজির থেকে পালিয়ে বেড়াবেন কেন? তিনি ১৪০ বার আদালতে সময় নিয়েছেন। ৩০ বার শুধু আদালত বদল করেছেন। উনি আদালতে যেতে সাহস পান না, কারণ চোরের মন পুলিশ পুলিশ। ’

দলীয় নেতাকর্মীদের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের তাগিদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘আমি আমার এমপিদেরও বলেছি, আপনারা দেখেন, শেখেন। কিভাবে ভোটারের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করা যায়। ওই বড় বড় গাড়ি-বাড়ি হলেই ভোটাররা ভোট দেবে না। ভোটারের সমস্যা জানতে হবে। সেগুলোর সমাধান করতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদেরকে আপনজন ভাবতে হবে। আগামীতে নির্বাচন। এই ইলেকশনটা বিরাট চ্যালেঞ্জ, এটা মনে রাখতে হবে। ’

বাংলাদেশের সাফল্যের কথা বিদেশে তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ আশাপ্রদ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং দেশটি এখন বিশ্বে একটা মর্যাদার আসনে রয়েছে। এই বিষয়টি বিদেশে তুলে ধরা প্রয়োজন। ’


মন্তব্য