kalerkantho


চালের কমতি নেই পাইকারি বাজারে

শওকত আলী   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



চালের কমতি নেই পাইকারি বাজারে

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে চালের পাইকারি দোকান (নং ২৩) এসবি ট্রেডার্সের মেঝে থেকে শুরু করে ছাদ পর্যন্ত সারি সারি চালের বস্তা। দেখলে মনে হয়, মাত্রই চালের বস্তায় ভরা হয়েছে দোকানটি।

গত সোমবার ওই মার্কেটে গিয়ে একই রকম চিত্র দেখা যায় আনিস এন্টারপ্রাইজ, কাজী রাইস এজেন্সি, আল নূরানী ট্রেডার্সসহ প্রায় সব চালের দোকানে। অথচ ওই সব দোকানের বিক্রেতারা দাবি করেন, মিল থেকে চাহিদা অনুযায়ী চাল দিচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, মিলাররা চাল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চালের বাজার অস্থির করে তুলছেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষি মার্কেটে চালের পাইকারি দোকান রয়েছে ১৮০টির মতো। বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাঁচ-ছয়টি বাদে অন্য সব দোকানেই চালের বস্তা সাজানো রয়েছে ছাদ পর্যন্ত সারি করে। জানা যায়, এই বাজারে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে ৫০টির মতো ট্রাক আসে চাল নিয়ে। কখনো কখনো কিছু বেশিও আসে। এখনো স্বাভাবিক সময়ের মতোই চাল আসছে। তাহলে চালের সংকট কোথায়—জানতে চাইলে আনিস এন্টারপ্রাইজের আনিস বলেন, ‘আমরা তো বেশি দাম দিয়েও চাল পাচ্ছি না।

মিলাররা বলছে তাদের কাছে ধানের সংকটের কারণে চাল নেই। তাই আমরা যে পরিমাণ চালের অর্ডার দিচ্ছি সে পরিমাণ পাচ্ছি না। সে পরিমাণ চাল এলে দোকান আরো ভরা থাকত। ’

কৃষি মার্কেটেই কথা হয় নওগাঁ থেকে চাল নিয়ে আসা একটি ট্রাকের হেলপারের সঙ্গে। হেলপার সজল মিয়া জানান, তিনি নওগাঁর রাজ্জাক রাইস মিল থেকে চাল নিয়ে এসেছেন। তবে রাজ্জাক রাইস মিলের কোনো গুদাম না থাকায় তাদের মজুদ করা চালও নেই। সজল বলেন, ‘শুনেছি বড় মিলগুলার কাছে অনেক চাল রয়েছে; কিন্তু আমরা তো অত খবর রাখতে পারি না। ’

কৃষি মার্কেটের এক পাইকারি বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দোকানে চাল রয়েছে প্রচুর, এটা সত্য। কিন্তু আমরা তো সহজে সে চাল পাচ্ছি না। মিলাররা দিচ্ছে না। ৩০০ বস্তার অর্ডার দিলে দিচ্ছে ১০০ বস্তা। এর পরও আমরা আগে যেখানে দু-এক জায়গা থেকে চাল নিতাম এখন ৮-১০টা মিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। তবে চালের মূল্যবৃদ্ধিতে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। ’ অস্থিরতার সুযোগে কোনো কোনো ব্যবসায়ী বেশি দামে চাল বিক্রি করছেন বলেও অবশ্য তিনি জানান। তবে কারো নাম উল্লেখ করতে রাজি হননি তিনি।

রাজধানীর মৌলভীবাজার, কারওয়ান বাজার ও বাড্ডার পাইকারি বাজার ঘুরেও দোকানগুলোতে চালের কমতি দেখা যায়নি। কারওয়ান বাজারের বরিশাল রাইস এজেন্সি, আল্লাহর দান, চাটখিল রাইস এজেন্সিসহ বেশির ভাগ দোকানেই প্রায় ছাদ পর্যন্ত চালের বস্তা সাজানো দেখা যায়। আল্লাহর দানের বিক্রেতা নাজির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে চাল এনেছি। মাসের মাঝামাঝি সময় বলে চাল বিক্রি হচ্ছে কম। তাই দোকানে চাল রয়ে গেছে। ’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চালের বাজারে অস্থিরতার জন্য শুধু মিলাররাই দায়ী নন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরও কারসাজি রয়েছে। কৃষি মার্কেট ও বাড্ডার দুজন পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, ব্যবসায়ীদের নৈতিকতার এখন খুব অভাব। সবাই শুধু সুযোগ খুঁজে বেড়াচ্ছে। সুযোগ পেলেই ফায়দা লুটে নিচ্ছে।

পাইকারি বাজারে চালের সংকট না থাকায় রাজধানীর খুচরা বাজারেও চালের কোনো ঘাটতি নেই। শুক্রাবাদ, কলাবাগান, হাতিরপুল, ফার্মগেট, টাউন হল মার্কেট, সেগুনবাগিচাসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এবং খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দাম বেশি হলেও চালের কোনো কমতি নেই। হাতিরপুলের খুচরা বিক্রেতা আনিস মিয়া তাঁর দোকানে অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি ছয় রকমের চালের বস্তা খুলে রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘পাইকারি বাজারে চালের তো অভাব নেই। তবে দাম এই কয় দিনে তো অনেক বেশি হয়ে গেছে। ’


মন্তব্য