kalerkantho


ইন্টারনেট সম্প্রসারণ প্রকল্পের কার্যাদেশ প্রদানে অনিয়ম!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



ইন্টারনেট সম্প্রসারণ প্রকল্পের কার্যাদেশ প্রদানে অনিয়ম!

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীনে ‘ইনফো-সরকার’ প্রকল্পের আওতায় গ্রামপর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণে কার্যাদেশ প্রদানে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট সার্ভিসেস প্রভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএসবি) নেতারা এমন অভিযোগ তুলেছেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে হোটেল লা ভিঞ্চিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ করা হয়েছে।

আইএসপিএসবি নেতাদের দাবি, কোনো ধরনের প্রতিযোগিতার সুযোগ না দিয়ে দুই কম্পানিকে সরকারি অর্থায়নে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ দেওয়া হচ্ছে। আর গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার কার্যাদেশ আইএসপির (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার) পরিবর্তে নিয়মবহির্ভূতভাবে এনটিটিএনকে (নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক) দেওয়ার প্রস্তাবে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে। এ প্রস্তাব অনুমোদিত হলে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হবে। সরকারের নীতিমালাও লঙ্ঘন করা হবে। গুটিয়ে ফেলতে হবে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র আইএসপি ব্যবসা।

আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিমের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক, সহসভাপতি এফ এম রাশেদ আমিন বিদ্যুৎ, মইন উদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মোহাম্মদ আরিফ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এম এ হাকিম বলেন, ইনফো-সরকার (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় দেশের দুই হাজার ৬০০ ইউনিয়নে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের এই ভালো উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে যাচ্ছে বিসিসি (বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল) ও বেসরকারি এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলো।

আইএসপিএবি সভাপতি বলেন, কার্যাদেশ পেতে যাওয়া প্রতিষ্ঠান দুটি হলো সামিট কমিউনিকেশন্স ও ফাইবার অ্যাট হোম। ওই দুই প্রতিষ্ঠান দেশের দুই লাখ সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য গ্রাহককে ইন্টারনেট সেবা দেবে।

আমিনুল হাকিম দাবি করেন, এর মাধ্যমে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানের সুযোগ দেওয়া থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাই আইন অনুযায়ী সব পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা প্রদানে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান, দর প্রস্তাব মূল্যায়ন, কার্যাদেশ অনুমোদনের সুপারিশ এবং কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কাজের আওতা নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম হয়েছে।

আইএসটিএবির নেতারা অভিযোগ করে বলেন, এই দরপত্রের আওতায় ২০ বছরের জন্য কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। অথচ এনটিটিএন লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান তাদের লাইসেন্সের মেয়াদের বাইরে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। কিন্তু ২০ বছরের মেয়াদ না থাকা সত্ত্বেও এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান দুটি এ কাজের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে।


মন্তব্য