kalerkantho


সিরিয়াল কিলার নান্নু খুন

ফখরে আলম, যশোর    

২৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



সিরিয়াল কিলার নান্নু খুন

সিরিয়াল কিলার মোকলেসুর রহমান নান্নুকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত শহর বনগাঁয় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত সোমবার বনগাঁ থানার পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

গতকাল মঙ্গলবার নান্নুর স্ত্রী ইতি বেগম লাশ আনার জন্য বনগাঁ থানায় গিয়েছেন। নান্নুর বড় ভাই শামছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আজমল হুদা বলেন, ‘নান্নু একজন খুনি, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। সে ভারতে খুন হয়েছে এমন খবর আমাদের জানা নেই। ’

নান্নুর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নান্নু দীর্ঘদিন ধরে ভারতে পালিয়ে ছিল। সে তার শ্যালক শামীমকে নিয়ে বনগাঁয় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকত। তিন-চার দিন আগে ওই বাসা থেকে একদল দুর্বৃত্ত নান্নুকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। গত সোমবার পুলিশ নান্নুর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে। উল্লেখ্য, গত ১৯ ডিসেম্বর এই নান্নুকে নিয়ে কালের কণ্ঠে ‘খুন নান্নুর নেশা-পেশা’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল।

জানা যায়, ‘ভাড়াটে খুনি’, ‘সিরিয়াল কিলার’, ‘নৃশংস খুনি’ ইত্যাদি সব তকমা রয়েছে নান্নুর। তার আন্ডারওয়ার্ল্ডের নাম ‘মিয়া’। বয়স ৩৮ বছর। তাকে অভিহিত করা হয় আরেক এরশাদ সিকদার বলে। খুন করা যার নেশা আর পেশা। যশোর সদর উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের নান্নু একের পর এক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিল। দীর্ঘ এক যুগে সে দুজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১৫ জনকে খুন করে যশোর ও ঝিনাইদহ জেলার মাটি কাঁপিয়ে অপরাধ জগতের গডফাদার হয়েছে। খুনের পাশাপাশি মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েও সে এতকাল অধরাই ছিল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, হতদরিদ্র নান্নু ১৯৮৬ সালের দিকে যশোর শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়ক এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে বয়ের কাজ নেয়। এখান থেকে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তার অপরাধ জগতে হাতেখড়ি। খুন করার জন্য নান্নু একটি বাহিনী গড়ে তোলে। প্রায় ৫০ জনের এই বাহিনীর কাছে রয়েছে একে ৪৭ রাইফেল, স্টেনগান, কাটা রাইফেল, বন্দুক, আধুনিক শটগান, পিস্তল, রিভলবারসহ অনেক অস্ত্র। ১৯৯৭ সালের দিকে নান্নু ভাড়াটে খুনি হিসেবে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে আবির্ভূত হয়। ভয়ে তার নামে কেউ মামলা করতে সাহস পায়নি। ২০০২ সালে তার নামে প্রথম একটি খুনের মামলা হয়। এর আগে নান্নু ১৯৯৭ সালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের গুরুদাস, একই বছর সুবর্ণসরা গ্রামের মোমিন, যশোর সদর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা চকমল হোসেন, সাজিয়ালি গ্রামের আনিসকে হত্যা করলেও তার নামে মামলা দিতে কেউ সাহস পায়নি। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে সাজিয়ালি গ্রামের আনোয়ারুল, ২০১৫ সালে পিরোজপুর গ্রামের রইস ও ২০১৬ সালে সুবর্ণসারা গ্রামের মিন্টুকে নান্নু খুন করলেও তার নামে কেউ মামলা করতে সাহস পায়নি।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ইদ্রিস আলীর ভাই রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাই বারীনগরে কাঠের ব্যবসা করত। তার অপরাধ হচ্ছে, সে নান্নুর বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করেছিল। এ কারণে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমরা নান্নুকে আটকের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু পুলিশ তাকে আটক করতে পারেনি। ’

নান্নুর বড় ভাই শামছুর রহমান বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হয়েছি নান্নুকে হত্যা করা হয়েছে। লাশ এখন বনগাঁ থানায় আছে। লাশ আনার জন্য ওর স্ত্রী ইতি বেগম বনগাঁয় গেছে। ’


মন্তব্য