kalerkantho


সাভারের ট্যানারিতে ধলেশ্বরী দূষণ বন্ধের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর বিভিন্ন ট্যানারি থেকে ফেলা তরল ও কঠিন বর্জ্যের কারণে ধলেশ্বরী নদী মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার বলছেন, সাভারের ট্যানারিশিল্পের তরল ও কঠিন বর্জ্য কোথায় রাখা হবে এর কোনো ব্যবস্থা এখনো করা হয়নি।

ট্যানারিশিল্পের বিভিন্ন বর্জ্যের কারণে শিল্প এলাকার চারপাশের পরিবেশ এবং ধলেশ্বরী নদী দূষিত হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব দূষণ বন্ধ করতে হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠন দুটি। সংবাদ সম্মেলনে বাপার সহসভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদের সভাপতিত্বে মূল বক্তব্য দেন বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার ও বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়কারী মিহির বিশ্বাস ও বাপার যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর কবির।

সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ আসে ট্যানারিশিল্প থেকে। কিন্তু দূষণের মতো বদনাম কাঁধে তুলে নিতে হচ্ছে এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। তাই আমরা সাভারের ট্যানারির কাজ দ্রুততার সঙ্গে শেষ করার দাবি জানাই। ’ তিনি বলেন, সাভারের ট্যানারিশিল্পের কঠিন বর্জ্য কোথায় রাখা হবে এর কোনো ব্যবস্থা এখনো করা হয়নি।

ট্যানারিশিল্পের বিভিন্ন বর্জ্যের কারণে পরিবেশদূষণ হচ্ছে। কিন্তু এই দূষণ বন্ধে এখনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি আরো বলেন, ‘২০ বছর ধরে আমরা ট্যানারিশিল্পের পরিবেশদূষণ নিয়ে কথা বলে আসছি। কিন্তু এ কাজ তো সরকারকে নিজে থেকেই করার কথা ছিল। আমরা হাজারীবাগে গিয়ে দেখেছি এখনো অবৈধভাবে পরিবেশের ক্ষতি করে ট্যানারি শিল্প পার্ক থেকে বর্জ্য বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলা হচ্ছে। হাজারীবাগের অনেক ট্যানারিতে বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে অথবা বিদ্যুৎ কম্পানির সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রেখে কারখানা চালানো হচ্ছে। এসব অবৈধ কারখানার কাজ পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন্ধ করতে হবে। ’

ডা. আব্দুল মতিন বলেন, ‘অসম্পূর্ণ নকশা ও চরম অব্যবস্থাপনার কারণে কার্যত সাভারের বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা কোনো কাজে আসছে না। ফলে ট্যানারির দূষণ বুড়িগঙ্গা থেকে উজানের ধলেশ্বরী নদীতে মিলিত হচ্ছে। কিন্তু দেশবাসী এটি চায়নি। আমরা অবিলম্বে এসব দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই। ’

শরীফ জামিল বলেন, ‘চলমান ট্যানারির দূষণ থেকে অবশ্যই আমাদের ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা ও কালীগঙ্গাসহ ভাটিতে অবস্থিত সব নদী বাঁচাতে হবে। এ মুহূর্তে সাভারের ট্যানারিশিল্পে দুটি মডিউল ৭০টি শিল্প-কারখানা থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার কিউবিক মিটার বর্জ্য পরিশোধনের নামে আংশিক পরিশোধিত হয়ে ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে পড়ছে। প্লান্টের আরো দুটি মডিউল শিগগিরই চালু করার সম্ভাবনা থাকলেও এ প্লান্ট চালু করা সম্ভব হবে না। ঈদের পর নতুন করে আরো ট্যানারি চালু হবে। তখন অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে চলে যাবে। ’ অসম্পূর্ণ নকশা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা সাভারে ট্যানারির দূষণকে আগের চেয়ে ব্যাপক বিস্তৃতি দিয়েছে বলে জানান তিনি।


মন্তব্য