kalerkantho


কমে আসছে বড় বন্যার আশঙ্কা

তৌফিক মারুফ   

২২ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



কমে আসছে বড় বন্যার আশঙ্কা

গতকাল সোমবারও দেশের ১৭টি নদ-নদীর পানি ২৫টি অংশে বিপত্সীমার ওপরে ছিল। আরো কমপক্ষে পাঁচ দিন এই ঊর্ধ্বগতি থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নরসিংদীর মতো ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোয় যেমন পানি বাড়ছে, প্লাবিত হচ্ছে ঢাকার নিম্নাঞ্চলও। পদ্মা ও মেঘনাবেষ্টিত চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুরসহ আরো কয়েকটি জেলার পরিস্থিতি আগামী চার-পাঁচ দিন একই রকম থাকবে। বন্যা বিশেষজ্ঞরা এমনই পূর্বাভাস দিয়েছেন। তবে বন্যা দীর্ঘায়িত হবে, নাকি দ্রুত পানি নামতে শুরু করবে তা ২৫-২৬ আগস্টের দিকে বুঝা যাবে বলে মত দিয়েছেন কেউ কেউ। প্রায় একই রকমের পূর্বাভাস রয়েছে সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যে। সব মিলিয়ে বড় বন্যার আশঙ্কা আপাতত কমে এসেছে।

বৃষ্টি কমে যাওয়া এবং উত্তরের কিছু নদ-নদীর পানির উচ্চতা কমতে থাকায় বড় বন্যার আশঙ্কা অনেকটাই কমে এসেছে। অবশ্য পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না আরো চার-পাঁচ দিন। উত্তরের অনেক স্থানে পানি কমে যাওয়ায় স্বস্তি ফেরার মধ্যেই উঁকি দিচ্ছে পদ্মা-মেঘনা মোহনায় পানির উচ্চতা আশানুরূপ না কমার ঝুঁকি।

বিশেষ করে চাঁদপুরে মেঘনা, গোয়ালন্দে পদ্মা এবং আরিচায় যমুনার অবস্থার এখনো উন্নতি ঘটেনি। পানি এক বেলা কমে তো আরেক বেলা বেড়ে যাচ্ছে। ওই তিন পয়েন্টেই শুধু নয়, এখনো দেশের ১৬-১৯টি নদ-নদীর ২৫-২৮টি পয়েন্টের পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কমলেও তা বিপত্সীমার নিচে নামছে না। সেই সঙ্গে গঙ্গার পানি আগামী ২৪ ঘণ্টা বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

বন্যা বিশেষজ্ঞ ও সরকারের বন্যা পুনর্বাসন ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক মো. সেলিম ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, পানি কমায় স্বস্তি এসেছিল, কিন্তু আজ-কাল পানি আবার বাড়তে পারে অমাবস্যার কারণে। সব মিলিয়ে আরো চার-পাঁচ দিন অপেক্ষা করতে হবে এবার বন্যা গতি-প্রকৃতি চূড়ান্তভাবে বুঝতে। কারণ ১৯৮৮, ১৯৯৮ কিংবা ২০০৪ সালে এমন অবস্থাই ছিল। বন্যা আসে-যায় করতে করতে আগস্টের শেষভাগে দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে বড় বন্যার ইতিহাস রয়েছে। তবে এটা ঠিক যে বড় বন্যার আশঙ্কা এখন অনেকটাই কমে আসছে; শুরুতে যেমন বড় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

ওই বিশেষজ্ঞ জানান, ভারতেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ওপার থেকে বাংলাদেশে বন্যার ঢল আসার তিনটি পথ—অমলসীদ, নুনখাওয়া ও পাঙ্ক্ষা সীমান্তে পানির প্রবাহ আগের তুলনায় কমেছে।

অবশ্য সরকারের বন্যা পুনর্বাসন ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান কালের কণ্ঠকে গতকাল বলেন, বন্যা নিয়ে আর এবার ভয়ের কিছু নেই। সবদিকেই পানি তুলনামূলক কমে আসছে প্রতিদিন। অমাবস্যার প্রভাবে পানি কিছুটা বাড়লেও তা দ্রুত কমে যাবে বলেই বিশ্বাস। তবে আজ-কাল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণের ওপর অনেকটা নির্ভর করছে।

বন্যা পুনর্বাসন ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রতিবেদন অনুসারে নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যার পানি বিপত্সীমার ওপরে ওঠে গত শনিবার সকাল নাগাদ, যা গত দুই দিনে আরো বেড়েছে। গতকাল নারায়ণগঞ্জের পানি ছিল বিপত্সীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে এবং আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত তা বাড়তেই থাকবে। একই অবস্থা ওই নদীর নরসিংদী অংশের লাখপুর এলাকায়; সেখানে পানি বিপত্সীমার ওপরে ছিল ৭৫ সেন্টিমিটার। মানিকগঞ্জের কালিগঙ্গার পানি বিপত্সীমার ওপরে উঠে গেছে ৯৬ সেন্টিমিটার। সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি এখনো বিপত্সীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। একইভাবে যমুনার অন্য পয়েন্টগুলোতে পানি বৃদ্ধির হার কমলেও সব স্থানেই তা বিপত্সীমার ৪০-৭৯ সেন্টিমিটার ওপরে অবস্থান করছে। পদ্মার পানি কিছুটা কমলেও গোয়ালন্দে তা গতকালও ছিল বিপত্সীমার ৮৭ সেন্টিমিটার ওপরে। ধলেশ্বরীতে ১০ সেন্টিমিটার কমলেও বিপত্সীমার ৮৮ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে এখনো। বন্যা পুনর্বাসন ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুসারে আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত এসব নদ-নদীর পানি বিপত্সীমার ওপরেই থেকে যাবে।

এদিকে ঢাকার বুড়িগঙ্গার পানি আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে ৮ সেন্টিমিটার, তুরাগের পানি বেড়েছে আগের দিনের চেয়ে ১ সেন্টিমিটার।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে।


মন্তব্য