kalerkantho


‘শেখ হাসিনা হামাক দেইখপ্যার আচ্চে’

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

২১ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



‘শেখ হাসিনা হামাক দেইখপ্যার আচ্চে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল দিনাজপুর সদরের বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এক বৃদ্ধাকে সান্ত্বনা দেন। ছবি : পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাছে পেয়ে বানভাসি সুরতভান তাঁকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘হামার বাড়িঘর সউগ ভাসি গেইছে। হামরা খুব কষ্টে আছি।

তখন প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘চিন্তা করেন না। আমি আপনাদের পাশে আছি। ’

গতকাল রবিবার কুড়িগ্রামের রাজারহাটের পাঙ্গারাণী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ আবেগাপ্লুত ঘটনা ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর মাঠের এক কোনায় ত্রাণের প্যাকেট নিয়ে জড়সড় হয়ে বসেছিলেন বৃদ্ধা সুরতভান। দুই ছেলে আলাদা থাকে। বন্যার পানিতে তাঁর একমাত্র ঘর ভেসে গেছে। আশ্রিত আছেন মেয়ের বাড়িতে।

এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ত্রাণ পেয়ে খুশি সুরতভান বলেন, ‘শেখ হাসিনা হামাক দেইখপ্যার আচ্চে। হামার খোঁজখবর নিচে।

হামরাও দুইটা দুঃখের কথা কচি। তাঁর জন্য খুব করি দেয়া কচ্চি। ’

ওই অনুষ্ঠানে এক হাজার বানভাসিকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়। প্যাকেটের মধ্যে ছিল ১০ কেজি চাল, এক লিটার তেল, এক কেজি ডাল, এক কেজি চিনি, এক কেজি চিঁড়া, আধা কেজি মুড়ি, এক ডজন মোমবাতি ও এক ডজন দিয়াশলাই।

প্রধানমন্ত্রী ৫০ জন বন্যার্তর হাতে ত্রাণ তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ত্রাণের প্যাকেট পেয়ে খুশি ঘরবাড়ি হারানো কালুয়ার চরের তহিরন, হামিদ, চিনিমন, আছিয়াসহ অনেকেই। তহিরন জানান, বাঁধ ভেঙে তাঁর ঘর ভেসে যাওয়ার পর এক ঘণ্টা বাঁশ ঝাড়ে বাঁশ ধরে প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে কষ্ট ভুলে গেছেন জানিয়ে তহিরন বলেন, ‘তায় হামার খোঁজ খবর নিবার আচ্চে। এতেই হামরা খুশি। ’

আছিমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইলিপ দিছে। ঘরবাড়ি দিবে কইছে। হামার কষ্ট আর থাকপ্যার নয়। ’

হামিদ মিয়া জানান, ধরলা নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর প্রথম তাঁর বাড়ি ভেসে যায়। বসতভিটাও ভেঙে গেছে। এখন প্রধানমন্ত্রী জমি আর বাড়ি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

জুলেখা বেগম বলেন, ‘বাড়ির ভিতরা বিরাট খাল পচ্চে। তাই হামার দুঃখ দেইপ্যার জন্য ঢাকা থাকি আচ্চে। একার হামার একটা গতি হইবে। ’ একই ধরনের মন্তব্য বয়োবৃদ্ধ পাচতলা বেগমের।


মন্তব্য