kalerkantho


লাশ বহনের গাড়ি সংকট পুলিশে, নষ্ট হয় আলামত

মফস্বলে আরো করুণ দশা, বাসে মর্গগামী মরদেহ!

সরোয়ার আলম   

১৯ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০




লাশ বহনের গাড়ি সংকট পুলিশে, নষ্ট হয় আলামত

গত সপ্তাহে রমনা থানার এক হোটেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গোলাম রাব্বানীর লাশ উদ্ধার হলে মরদেহ মর্গে পাঠাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে পুলিশ। পরে অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে লাশ মর্গে পাঠানো হয়।

মাসখানেক আগে মাদারটেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করার পর গাড়ির অভাবে সবুজবাগ থানার পুলিশ লাশ মর্গে পাঠায় রিকশায় করে। গত ১ এপ্রিল উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর থেকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ নিয়ে আসে থানায়। বিপত্তি ঘটে লাশ মর্গে পাঠানো নিয়ে। একপর্যায়ে পুলিশের পিকআপ ভ্যান ব্যবহার করতে হয়। রাজধানীর এই তিনটি থানার মতোই দেশের থানাগুলোতে লাশবাহী গাড়ির সংকট প্রকট। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতাধীন থানাগুলোর একটিরও লাশবাহী গাড়ি নেই। এমনও জেলা আছে—একটিও গাড়ি নেই। তাই ভাড়া গাড়ি বা পুলিশের পিকআপে করে লাশ নিতে হচ্ছে মর্গে। আর লাশ টানাহেঁচড়ার কারণে আলামতও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মামলা দুর্বল হয়ে পড়ায় পার পেয়ে যাচ্ছে আসামি। থানার ওসিরা জানিয়েছেন, অর্থাভাবেই মূলত লাশবাহী গাড়ি কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, থানাগুলোতে লাশবাহী যানবাহন নেই তা সত্যি। প্রতিটি থানায় ওই সব গাড়ি থাকলে খুবই উপকার হবে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনে মাত্র দুটি লাশবাহী গাড়ি আছে। প্রয়োজন হলে এগুলো আমরা ব্যবহার করে থাকি। থানার অনুপাতে গাড়ির সংখ্যা অনেক কম। তবে গাড়ির সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপাতত গাড়ি কেনার কোনো পরিকল্পনা নেই।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, সম্প্রতি পুলিশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে লাশবাহী গাড়ি কেনার ব্যাপারে প্রস্তাব করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। তিনি বলেন, তুরাগ এলাকায় যদি লাশ উদ্ধার হয় তাহলে কি রাজারবাগ থেকে গাড়ি নেবে। তাহলে পুলিশের আর কী করার আছে?

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি আলী হোসেন খান ও শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান জানিয়েছেন, লাশবাহী গাড়ি না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একই কথা বলেছেন বনানী থানার ওসি বি এম ফরমান আলী, কদমতলী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী, তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলামসহ ডিএমপির বেশির ভাগ থানার ওসিরা। কয়েকটি জেলার পুলিশ সুপাররাও কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, টাকার অভাবে লাশবাহী গাড়ি কিনতে না পারার কথা। তাঁরা বলছেন, পুলিশ সদর দপ্তরের বড় স্যারদের অবহিত করার পরও কোনো কাজে আসছে না। একজন পুলিশ সুপার কালের কণ্ঠকে বলেন, থানার ওসিরা বারবার আমাদের কাছে অভিযোগ দিয়ে বলছেন, ‘লাশ টানাহেঁচড়ার ফলে আলামত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমনকি লাশ বাসে করে পর্যন্ত মর্গে পাঠাতে হচ্ছে। ’

রমনা থানার ওসি মশিউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই লাশবাহী গাড়ির সংখ্যা প্রকট। আমাদের রমনা ডিভিশনে একটিও গাড়ি নেই। কিছুদিন আগে এক মুক্তিযোদ্ধার লাশ উদ্ধার করার পর হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে লাশ মর্গে পাঠাতে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, লাশ উদ্ধারের পর অনেকটা অসম্মান করেই মর্গে পাঠানো হয়। টানাহেঁচড়ার কারণে আলামত পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। একেকটি ডিভিশনে অন্তত একটি করে গাড়ি রাখলেই থানা-পুলিশের খুবই উপকার হবে।


মন্তব্য