kalerkantho


হজযাত্রীদের চিকিৎসা ও সেবা কার্যক্রম

ভিসা পেয়েও সৌদি যেতে পারছেন না শতাধিক চিকিৎসক ও নার্স

মোশতাক আহমদ   

১৭ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



ভিসা পেয়েও সৌদি যেতে পারছেন না শতাধিক চিকিৎসক ও নার্স

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমুন নাহার হাজিদের সেবায় সৌদি আরবে যেতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন (জিও) পেয়েছেন। ভিসাও হয়ে গেছে।

কিন্তু তাঁর সৌদি গমনে বাদ সেধেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফয়সাল হোসেনও একই কারণে সৌদি যেতে পারছেন না।

ডা. ফয়সাল ও নাজমুন নাহারের মতোই অভিন্ন কারণে এবার হাজিদের মেডিক্যাল ও সহায়ক টিমে শামিল হয়েও সৌদি আরবে যেতে পারছেন না শতাধিক চিকিৎসক ও নার্স। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র, সৌদি আরবের ভিসা, বিমানের টিকিট—সবই তাঁদের হাতে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দিলসাদ বেগম স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে তাঁদের সবার সৌদি যাওয়ার ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় ওই সব চিকিৎসক ও নার্স গতকাল বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ে হাজির হয়ে বিষয়টি ধমমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অসাধু কিছু কর্মকর্তা বিশেষ সুবিধা আদায়ের জন্য তাঁদের যাত্রা অন্যায়ভাবে আটকে দিয়েছেন।

সৌদি আরবের ভিসা হয়েছে এমন একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পবিত্র হজব্রত পালনে বাংলাদেশিদের সেবা করার জন্য মনোনীত হয়ে আমরা সৌদি আরবের ভিসাও পেয়েছি। কিন্তু আমাদেরকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন, পুলিশসহ বিভিন্ন স্থানে পত্র দিয়ে আমাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই অবস্থানকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে অভিযোগ করেছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও। ’

জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল জলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোটায় ৬২ জনের স্থলে আরো চার-পাঁচজন বেশি চিকিৎসক ও নার্স পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছি। এর বাইরে কাকে পাঠানো হবে তা দেখার দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়। কারণ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেভাবে গভর্নমেন্ট অর্ডার জারি করতে পারে সেভাবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ও কোনো বিষয়েও জিও জারি করতে পারে। তাই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত লোকবলকে বিদেশ যেতে বাধা দেওয়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঠিক হয়নি। আমরা আরো এক-দুই দিন দেখব। এর মধ্যে সুরাহা না করলে আমরা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করব। ’

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান, তাঁরা সবাই সরকারি হাসপাতালে কর্মরত। তাঁরা নিজেরাও ভালোভাবেই জানেন যে কিভাবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া লাগে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাঁদের সৌদি আরবে যাওয়ার পথ বন্ধ করে রেখেছে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (সেবা ও সুরক্ষা বিভাগ) সিরাজুল হক খান কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছেন। তাই মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আটকে পড়াদের জন্য কিছুই করার নেই। তিনি এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে মন্ত্রীর মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর একান্ত সহকারী সচিব মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রী এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো কথা বলবেন না। ’

এদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গতকাল রাত পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। আর পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য গতকাল পর্যন্ত মোট এক লাখ ২৩ হাজার ২১১ জন বাংলাদেশিকে ভিসা দিয়েছে সৌদি সরকার।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল জলিল জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় সংরক্ষিত মোট চার হাজার ২০০ যাত্রীর মধ্যে চার হাজার ১১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার মোট এক লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ জনের কোটার মধ্যে এক লাখ ১৭ হাজার ৮২৫ জনের ভিসা হয়েছে। আগামীকাল ও পরশুর মধ্যে আরো চার থেকে সাড়ে চার হাজার হজযাত্রীর ভিসা হবে বলে আশা করা যায়। ভিসাপ্রাপ্তদের সবাই শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবে যেতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিমানের অতিরিক্ত ও নিয়মিত ফ্লাইটের হিসাব অনুযায়ী বাকি সবাই স্বস্তিতেই হজ পালন করতে সৌদি যেতে পারবেন।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রীর কোটা রয়েছে। সে হিসাবে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক লাখ ২১ হাজার ৯৪১ জনের ভিসা হয়েছে। সে হিসাবে এখনো পর্যন্ত ভিসা বাকি রয়েছে পাঁচ হাজার ২২৭ জনের।

ধর্মসচিব জানান, বিগত বছর নির্ধারিত কোটার ৯৭ শতাংশের কিছু বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। এবারও তেমন সংখ্যক হজযাত্রী হজে যেতে পারবেন বলে আশা করা যায়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সৌদি আরবে যেতে যাঁদের বাধা দিচ্ছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক ১১ জন, নার্স ৩৩ জন, ফার্মাসিস্ট, প্যারামেডিক, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক ১৬ জন এবং বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্মকর্তা ১৮ জন।


মন্তব্য