kalerkantho


শ্রম আইনের সংশোধনী নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক

এম সায়েম টিপু   

১৬ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



শ্রম আইনের সংশোধনী নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক

সরকার শ্রম আইন সংশোধনের একটি খসড়া করে ৩১ আগস্টের মধ্যে আইএলওকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে (ইপিজেড) ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত করা এবং ইপিজেডের বাইরের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে আইনি বাধা শিথিল করা হতে পারে সংশোধিত খসড়ায়।

এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তরফে সুপারিশ রয়েছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু কালের কণ্ঠকে বলেন, শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে সরকার, শ্রমিক ও মালিকদের ত্রিপক্ষীয় কমিটি কাজ করছে। আশা করা যায়, ৩১ আগস্টের মধ্যে সংশোধিত শ্রম আইনের খসড়া প্রস্তাব তৈরি হয়ে যাবে।

অবশ্য আইনের খসড়ার কিছু বিষয়ে ত্রিপক্ষে (ট্রাইপারটিট কনসালটেশন কাউন্সিল—টিসিসি) এখনো মতৈক্য হয়নি। গত ১০ থেকে ১২ আগস্ট গাজীপুরের ব্র্যাক সিডিএম-এ মালিক শ্রমিক ও সরকারপক্ষের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও মতৈক্য আসেনি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এ নিয়ে রাজধানীর মতিঝিল চেম্বার ভবনে আবারও বৈঠক হবে। শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা যায়। আগামী বছর জুনে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের (আইএলসি) আগেই সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে আইএলওর মানদণ্ড অনুসারে শ্রম আইন সংশোধন করার।

টিসিসিতে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের একজন হলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন।

তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছু বিষয়ে সব পক্ষ একমত হতে না পারায় বৃহস্পতিবারও বৈঠক হবে। আমাদের প্রত্যাশা, শ্রম আইন সংশোধনে শ্রমিকদের পক্ষে দেওয়া সংশোধনীগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। ’

আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) মহাসচিব মো. তৌহিদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদ্যমান শ্রম আইন শ্রমিকদের বিপক্ষে ও ব্যবসায়ীবান্ধব। ফলে শ্রমিকরা নিয়মিত ঠকছে। তাই আমাদের প্রত্যাশা, সরকার আইএলসিতে করা অঙ্গীকার অনুসারে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার এবং শ্রমিক হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধন আনবে। ’ তিনি বলেন, বর্তমান শ্রম আইনে ৩০ শতাংশ শ্রমিকের উপস্থিতিতে দুটি সাধারণ সভা করে ট্রেড ইউনিয়ন করার যে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে তা অবাস্তব। এটা মালিকের কূটকৌশল। তাঁর মতে, কর্মস্থলে শ্রমিক মারা গেলে মাত্র এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের বিধানটিও অমানবিক।

সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আকতার বলেন, বর্তমান শ্রম আইনে সরকারি ও বেসরকারি শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছে বিরাট বৈষম্য। বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা বেশি অবহেলিত। যেমন সরকারি শ্রমিক-কর্মচারীরা ২৪ সপ্তাহ মাতৃত্বকালীন ছুটি পেলেও বেসরকারি শ্রমিকরা পায় মাত্র ১৬ সপ্তাহ।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সভাপতি বাবুল আখতার বলেন, বিদেশিদের ধাক্কায় শ্রম আইনের কিছু ধারা বাস্তবায়িত হলেও মালিকরা এখনো আইনের কোনো তোয়াক্কা করেন না। এমনকি সুযোগ পেলেই শ্রমিক হয়রানি করেন।

 


মন্তব্য