kalerkantho


বগুড়ায় চক্রের ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি

চাইলেই মিলছে অবৈধ সিম

লিমন বাসার, বগুড়া   

১৬ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



চাইলেই মিলছে অবৈধ সিম

বগুড়া শহরের দক্ষিণ কাটনারপাড়া এলাকা থেকে গতকাল ২৭৯৫টি বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনকৃত সিম কার্ডসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে ইকবাল মোর্শেদ সরকারি নিয়ম মেনে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করে ব্যবহার করছেন নিজের মোবাইল সিম। হঠাৎ জানতে পারলেন তাঁর নামে দুটির স্থলে আটটি সিম নিবন্ধন করা।

অন্য নম্বরগুলো সচল থাকলেও সেগুলোর ব্যবহারকারীদের তিনি চেনেন না। শেষ পর্যন্ত মোবাইল ফোন কম্পানিতে অভিযোগ করে অনেক হয়রানির পর বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন তাঁর নামে তোলা ভুয়া সিমগুলো।

এনজিও সংস্থায় চাকরি করা হাবিবুর রহমান মিলনও জানালেন তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। সিম কিনতে গেলে ‘হচ্ছে না’ জানিয়ে তিনবার তাঁর আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, তাঁর একটি সিমের বিপরীতে একই কাগজপত্রে আরো পাঁচটি সিম উত্তোলন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি থানায় জিডি করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বগুড়া শহরে এখনো হাত বাড়ালেই মোবাইল ফোনের ভুয়া সিম পাওয়া যায়। কিনতে পাওয়া যায় মুদি দোকানে। আর এসব সিম ব্যবহার করে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের জীবন বিষিয়ে তুলছে।

সাধারণ মানুষ জানতেও পারছে না তাদের নামে তোলা সিম দিয়ে কত বড় বড় অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে অপরাধীরা। অথচ এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সরকার সিম পুনর্নিবন্ধনের মতো এক মহাযজ্ঞ বাস্তবায়ন করেছে। জানা গেছে, একটি চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে একাধিকবার ফিঙ্গারপ্রিট নিয়ে নাম, ঠিকানা ও ছবি জালিয়াতি করে চড়া মূল্যে বাজারে প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিম বিক্রি করছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় একটি চক্রের সন্ধান মেলার তথ্য দেন। তিনি জানান, এই চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯ জনকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শহরের দক্ষিণ কাটনারপাড়ায় চকযাদুক্রস লেনে অভিযান চালিয়ে বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করা দুই হাজার ৭৯৫টি মোবাইল সিমসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলো দক্ষিণ কাটনারপাড়ার আশিক দৌলতানা অভি, নয়ন ইসলাম, রিয়াল শেখ ও রাফিউল ইসলাম অন্তর। উদ্ধার করা সিমের মধ্যে দুই হাজার ৩৭০টিই রবির। বাকিগুলো গ্রামীণফোন ও টেলিটকের।

পুলিশ সুপার জানান, বগুড়াকেন্দ্রিক এই চক্রের হোতা হলো অভি। সে বেশি দামে শত শত সিম বিক্রি করে অপরাধীচক্র ও ভিওআইপি ব্যবসায়ীদের কাছে। তাকে সহযোগিতা করে রবি মোবাইল ফোন অপারেটরের উত্তরাঞ্চলীয় ডিলার রাফিদ হাসান খান। তিনি বগুড়া শহরের শিববাটি এলাকার ব্যবসায়ী গোলাম রসুল খান রানার ছেলে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাফিদসহ মোবাইল ফোনের সিম ব্যবসায়ী চকঝপু পূর্বপাড়ার লিটন মিয়া, নিশিন্দারা পশ্চিমপাড়ার মঞ্জুরুল হক, চাঙ্গুইড় পূর্বপাড়ার শফিউল আলম শাকিল ও গাবতলীর জামিলবাড়িয়ার সেলিম রেজাকে গ্রেপ্তার করে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রবির উত্তরাঞ্চলীয় ডিলার রাফিদ হাসান খান তাঁর নিয়োগ করা শত শত রিটেইলার ব্যবসায়ীকে নির্দেশ দিয়েছেন সিম রেজিস্ট্রেশনের সময় একটির পরিবর্তে একাধিক আঙুলের ছাপ নিতে। পরে অন্য আঙুলের ছাপে তারা এই অবৈধ সিমগুলোর বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করে বিভিন্ন চক্রের কাছে দ্বিগুণ বা তিন গুণ দামে বিক্রি করে।

ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, হাত বাড়ালেই বগুড়া শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ভুয়া নিবন্ধনকৃত মোবাইল ফোনের সিম মিলছে। বেআইনি হওয়ায় এসব সিমের দামও চড়া, ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা। অনুসন্ধানের স্বার্থে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনকৃত সক্রিয় (প্রি-অ্যাক্টিভেটেড) একটি সিম কিনেছেন এই প্রতিবেদক। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেই নম্বরের সঙ্গে যে এনআইডি নম্বর যুক্ত রয়েছে সেই নম্বরে আরো আটটি সিম তোলা হয়েছে। তবে মোবাইল ফোন অপারেটর কম্পানির অসহযোগিতার কারণে সিমের মূল মালিকের নাম-ঠিকানা জানা সম্ভব হয়নি।


মন্তব্য