kalerkantho


রাজশাহীতে ছাত্রলীগের সম্মেলন ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



রাজশাহীতে ছাত্রলীগের সম্মেলন ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ

রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিট কমিটির সম্মেলন ঘিরে নগরজুড়ে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া পূর্ব ছাত্রলীগের সম্মেলন ঘিরে দোকানে দোকানে চিঠি দিয়ে মৌখিকভাবে চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও একাধিক ব্যবসায়ীরা কালের কণ্ঠকে অভিযোগ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর একাধিক ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠ’র কাছে অভিযোগ করেন, বোয়ালিয়া পূর্ব ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় গতকাল বিকেলে। নগরীর আলুপট্টি মোড়ে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনের একটি করে আমন্ত্রণপত্র ব্যবসায়ীদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে আসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এর আগে শনিবার বিকেলে বোয়ালিয়া থানা এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে এই আমন্ত্রপত্র দিয়ে আসে। সঙ্গে সম্মেলনের জন্য খরচ বাবদ ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা, ক্ষেত্রবিশেষে এর চেয়েও বেশি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অলোকার মোড় এলাকার এক ব্যবসায়ী গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের সম্মেলন ঘিরে শনিবার বিকেলে এসে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী টাকা দাবি করে। সঙ্গে একটি করে আমন্ত্রণপত্রও দিয়ে যায়। কিন্তু আমরা সাধারণ ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক কোনো আয়োজনেই যাই না। তাহলে টাকা দেব কেন। তাই টাকা দিতে রাজি হইনি। তবে এ নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য বা খারাপ কথা বলেনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা শুধু বলেছে, ‘পারলে দেন, না দিলে তো আর জোর করে নিতে পারব না। ’ এরপর তারা চলে গেছে।

নগরীর সাহেববাজার এলাকার আরেক ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তারা জোর করেনি। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যখন দোকানে দোকানে গিয়ে টাকা দাবি করে তখন কজন টাকা না দিয়ে থাকতে পারবে। অনেকে ভয়ে ভয়েই টাকা দিতে বাধ্য হয়েছে। পরে ঝামেলা করতে পারে—এমন আশঙ্কায় আমি নিজেও ৩০০ টাকা দিয়েছি। ’

নগরীর একটি সোনার দোকানের মালিক জানান, তাঁর দোকানে গিয়ে সম্মেলনের জন্য চার-পাঁচজন যুবক নিজেদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে সম্মেলনের জন্য দুই হাজার টাকা দাবি করে। শেষ পর্যন্ত তিনি এক হাজার টাকা দিয়ে তাদের বিদায় করেন। তবে কোনো হুমকি বা ভয়ভীতি দেখানো হয়নি বলেও দাবি করেন ওই ব্যবসায়ী।

স্থানীয় সূত্রমতে, কয়েক দিন ধরে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিট কমিটি হচ্ছে। জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কমিটিগুলো হচ্ছে। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে মতিহার থানা ছাত্রলীগের কমিটি। এর আগের দিন অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজপাড়া থানা ছাত্রলীগের কমিটি। এসব কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্যও ব্যাপক চাঁদাবাজি করা হয়েছে নগরজুড়ে।

জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর বোয়ালিয়া পূর্ব ছাত্রলীগের সহসভাপতি পিয়ারুল ইসলাম পাপ্পু বলেন, ‘বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমরা আমন্ত্রণপত্র দিয়েছি। তবে কারো কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়নি। এটি সঠিক নয়। ’

তবে সম্মেলন ঘিরে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ। তিনি বলেন, ‘কোথাও চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে আমার জানা নেই। কারো কাছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চাঁদা দাবি করলে তারা যেন আমাকে জানায়। সম্মেলন ঘিরে আমরা কাউকে এই সুযোগ নিতে দিচ্ছি না। ’


মন্তব্য