kalerkantho


সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ

ওয়ান-ইলেভেনের আগের সীমানা চায় বিএনপি

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৯ জুন, ২০১৭ ০০:০০



ওয়ান-ইলেভেনের আগের সীমানা চায় বিএনপি

বিএনপি ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের আগের সংসদীয় আসনের সীমানা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে। দলটির দাবি ১৯৮৪ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে যে ৩০০ আসনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সে মোতাবেক সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হোক। গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে দেখা করে এ দাবি জানায়। আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে সিইসির সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন দলটির নেতারা।

বৈঠক শেষে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘১৯৮৪ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে ৩০০ আসনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেটার পরে ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালের নির্বাচনগুলো এর ভিত্তিতে হয়েছে। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনের সরকার যখন আসে তখন ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রায় ১৩৩টি আসন পুনর্বিন্যাস করে। এ সময় ভৌগোলিক সীমারেখা, প্রশাসনিক সুবিধা এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় না এনে আসন পুনর্বিন্যাসের নামে একটা হচপচ করা হয়েছে। অথচ এভাবে আসন পুনর্বিন্যাসের কারো কোনো দাবি ছিল না। ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের সময়ও নির্বাচন কমিশনের কাছে এ বিষয়ে কোনো দল বা কোনো গোষ্ঠী বা সুধীসমাজ কারো কোনো দাবি ছিল না। কোনো দাবি না থাকা সত্ত্বেও তারা নিজেরা যে পুনর্বিন্যাসটা করেছে তাতে অনেক অসামঞ্জস্যতা আছে। সে জন্য আমরা ২০০৮ সালের পূর্ববর্তী যে আসনগুলো ছিল সেইভাবে পুনর্নির্ধারণ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাতে এসেছি।

যেহেতু নির্বাচন কমিশনের হাতে নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষমতা আছে, তাই ১৩৩টি আসনে যে অসামঞ্জস্যতা আছে তা দূর করে ৩০০ আসন পুনর্বিন্যাস করার জন্য আমরা কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছি। ’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময়ের সরকার জনগণের সরকার ছিল না। এটা একটা জরুরি আইনের সরকার ছিল। তারা কি মনে করে করেছে, কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করেছে সেটা আমরা জানি না। তবে ওই কাজগুলো সঠিক হয়নি। ’

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে নির্বাচন কমিশন ইচ্ছা করলেও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে পারবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে কোন দল এখানে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে? অতএব অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হলে এখানে লেভেল প্লেয়িং  ফিল্ড লাগবে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছি যাতে করে তারা সরকারকে এ ব্যাপারে চাপ প্রয়োগ করে। ’

এদিকে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটিও করেছে নির্বাচন কমিশন। ওই কমিটি আগামী আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করবে।

বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বলেন, ‘বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে কথা হয়েছে। সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে তারা ১৯৮৪ সালের যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই নীতিতে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছে। আমরা তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের যে রোডম্যাপ আছে সেখানে সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি আছে। এ বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করব। আর আমরা এই মুহূর্তেই বলতে পারব না যে আমরা ’৮৪-তেই থাকব,  না  ২০০৮-এ যেটা ছিল সেটায় থাকব।   নাকি ২০১৪-এর নির্বাচনে যেটা ব্যবহার করা হয়েছে সেটা ব্যবহার করব। তবে হ্যাঁ, সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা পরিবর্তন আনতে চাই। ’ 

সিইসি সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধিদলের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসোন চৌধুরী ও ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিএনপি প্রতিনিধিদলের মধ্যে আরো  ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুর রশীদ সরকার ও ক্যাপ্টেন সুজা উদ্দিন।


মন্তব্য