kalerkantho


চট্টগ্রামে একদল তরুণের হামলায় স্কুল ছাত্র নিহত

তিনজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৪ মে, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রামে একদল তরুণের হামলায় গুরুতর আহত স্কুল ছাত্র ইসমাইল গনি (১৪) পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার মারা গেছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় স্থানীয় একটি ক্লিনিকে তার মৃত্যু হয়।

নগরের বাকলিয়ায় উঠতি বয়সের একদল ছেলের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে গত ১৯ মে থেকে চিকিৎসাধীন ছিল ইসমাইল। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অবশ্য তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ইসমাইল নগরের চরচাক্তাই এলাকার জুলেখা-আমিন সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের নতুন মসজিদ এলাকায় তাদের বাসা। তার বাবা জসিম উদ্দিন নগরের টেরিবাজারের কাপড় ব্যবসায়ী।

বাকলিয়া থানার ওসি প্রণব চৌধুরী বলেন, ‘ইসমাইল ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ছিল। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করে ক্লিনিকে পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে।’

ইসমাইলকে মারধরের ঘটনায় বাকলিয়া থানায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে বলে ওসি জানান।

পুলিশ জানায়, ইসমাইল গত ১৯ মে শুক্রবার বিকেলে বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় মাঠে ক্রিকেট খেলতে যায়। এ সময় সেখানকার উঠতি বয়সের কয়েকটি ছেলের সঙ্গে তার খেলা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। ওই দিন রাত ৮টার দিকে ইসমাইল কোচিং শেষ করে হেঁটে বাসায় ফিরছিল। বাসার অদূরে জামাইবাজার এলাকায় পৌঁছার পর ২০-৩০ জন কিশোর-তরুণ ইসমাইলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ঘটনাস্থলেই ইসমাইল জ্ঞান হারায়।

খবর পেয়ে ইসমাইলের বাবা ও পরিবারের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ইসমাইলকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তার বাঁচার আশা নেই বলে জানালে ইসমাইলকে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার রাত থেকে ইসমাইলকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ইসমাইলের মা নীলু আক্তার হামলাকারী ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অচেনা আরো ১০-১৫ জনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।



মন্তব্য