kalerkantho


বিদেশে সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি ইস্যু

একদলীয় বাকশালের বহিঃপ্রকাশ : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মে, ২০১৭ ০০:০০



বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে সাংবাদিকরা কোথায় কি করছেন, দূতাবাসগুলোকে তার নজরদারি করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশনাকে ‘একদলীয় বাকশালের’ বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এ কথা বলেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু ও যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের মুক্তির দাবিতে স্বাধীনতা ফোরামের উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল।

রিজভী বলেন, ‘আপনারা আজকে খবরের কাগজে দেখবেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সার্কুলার দেওয়া হয়েছে, বিদেশে যেসব সাংবাদিকরা যাবেন, সেই সাংবাদিকদের ওপর যেন নজরদারি করা হয়। একেবারে লিখিত সার্কুলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। বিদেশে যে এম্বেসি ও হাইকমিশনগুলো আছে, তাদের অ্যাম্বাসাডর ও হাহকমিশনারদের কাছে এই সার্কুলার পাঠানো হয়েছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম গণতন্ত্রের একটি মূল ভিত্তি। তাদের স্বাধীনতাকে আজকে বাংলাদেশে সংকুচিত করা হয়েছে। সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আজকে সত্য উচ্চারণ বন্ধ করেছে, মিডিয়ার ওপর স্বঘোষিত নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে। এখন তাদের চলাচলের ওপরে নজদারি করছে। এটা কোনো গণতান্ত্রিক সরকার করে না, এটা নিষ্ঠুর ঘাতক বাকশাল একদলীয় সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে। আমরা এহেন কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

রিজভী বলেন, আজকে দেশে দুঃশাসনের মধ্যেও কেউ কেউ প্রতিবাদ করছেন, স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকেও কেউ কেউ প্রতিবাদ করছেন। যেমন—প্রধান বিচারপতি করছেন। বলছেন যে, শাসন বিভাগ বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করছে, আজও তিনি বলেছেন।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সরকার বিএনপিকে ভয় পায়। সেজন্য তারা দলের নেতাকর্মীদের কারাগারে নিচ্ছে। তিনি সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এত হত্যা করছেন, এত গুম করছেন, এত কারাগারে নিচ্ছেন, এরপরও আপনাদের আতঙ্ক কাটছে না?’ অবিলম্বে বরকতউল্লাহ বুলু ও খায়রুল কবির খোকনের মুক্তির দাবি জানান রিজভী।

স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শিরিন সুলতানা, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, ফরিদা ইয়াসমীন প্রমুখ বক্তব্য দেন।



মন্তব্য