kalerkantho


টিভি-ফ্রিজ মেরামতের নামে বাসায় ঢুকে তিন মাসের শিশু অপহরণ

শিশুটি উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মে, ২০১৭ ০০:০০



টিভি-ফ্রিজ মেরামতের নামে বাসায় ঢুকে তিন মাসের শিশু অপহরণ

কেরানীগঞ্জ থেকে অপহৃত তিন মাসের শিশুকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে র‌্যাব। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকার ইলেকট্রিশিয়ান সুমন। ওই এলাকায় তার একটি দোকান আছে।

এলাকার বাসাবাড়ি বা দোকানের টিভি-ফ্রিজ নষ্ট হলে ঠিক করে দিত সে। সেই সুবাদে পরিচয় হয় মেডিক্যাল প্রমোশন অফিসার শাখাওয়াত হোসেন ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে। তাদের টিভি-ফ্রিজ মেরামত করে দিত সে। গত বুধবার টিভি-ফ্রিজ ঠিক আছে কি না, দেখার কথা বলে সে শাখাওয়াতের বাসায়  ঢোকে। এরপর শাখাওয়াতের স্ত্রীকে আটকে রেখে ওই দম্পতির তিন মাসের শিশু শিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েছে সে। গত বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জ থেকেই শিশুটিকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। সুমনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক জাহাঙ্গীর হোসাইন মাতুব্বর এসব তথ্য জানান।

জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কেরানীগঞ্জের নামাবাড়ী রিভারভিউ সোসাইটির সাত তলার একটি ফ্ল্যাটে শাখাওয়াতের বাসায় যায় সুমন। এ সময় শাখাওয়াতের স্ত্রী রিতু ইসলামকে সে জিজ্ঞেস করে কোনো কাজ আছে কি না? কাজ নেই, জানিয়ে সুমনকে বসতে বলে রিতু ভেতরের রুমে বাচ্চার কাপড় আনতে যান। এ সময় ড্রয়িং রুমের খাটের ওপর তাঁর তিন মাসের শিশুটি শোয়া ছিল। ভেতরের রুম থেকে বাচ্চার জামাকাপড় নিয়ে বের হতে গিয়ে রিতু দেখেন বাইরে থেকে রুমটির ছিটকিনি আটকানো। তিনি ভেতর থেকে চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু কোনো সাড়া-শব্দ পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে তাঁর চিৎকার শুনে প্রতিবেশী একজন এসে দরজা খুলে দেন। রিতু ড্রয়িং রুমে এসে দেখেন, তাঁর মেয়ে নেই। সুমনও উধাও। রিতু সুমনকে একাধিবার ফোন করলেও সে ধরেনি। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর মুক্তিপণ চেয়ে রিতুকে ফোন করে সুমন। বলে, ‘আমি তোর মেয়েকে নিয়ে এসেছি। মেয়েকে পেতে হলে দুই লাখ টাকা প্রস্তুত রাখ। যখন বলব নিয়ে আসবি। র‌্যাব-পুলিশ কাউকে জানালে তোর মেয়েকে পাবি না। ’ এর পরই সে ফোন কেটে দেয়। রাত ১১টার দিকে সুমন আবার ফোন করে তাড়াতাড়ি টাকার ব্যবস্থা করতে বলে। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে আবার ফোন করে সুমন। শিশুটি সুস্থ আছে এবং কখন কোথায় টাকা নিয়ে আসতে হবে সেই ঠিকানা জানিয়ে দেয় সুমন। বিষয়টি র‌্যাব-১০কে জানান শাখাওয়াত হোসেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। একপর্যায়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার কাঁচাবাজার থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোলাম বাজার হাবিব কলোনি গলির একটি বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে সুমন র‌্যাবের কাছে শিশুটিকে অপহরণ ও দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির কথা স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে, অপহরণের বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত। অপহরণের পর সে তার পূর্বপরিচিত পারভেজের বাসায় শিশুটিকে নিয়ে যায় এবং তাদের জানায়, শিশুটির মা নেই। শিশুটিকে সে দত্তক নিয়েছে। গতকাল তার বোন মাদারীপুর থেকে এসে সেখানে নিয়ে যাবে। কিন্তু এরই মধ্যে সে ধরা পড়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে শাখাওয়াত হোসেন ও রিতু ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। মেয়েকে ফিরে পেয়ে আবেগে কাঁদতে থাকেন তাঁরা। পরে এ ঘটনায় সহায়তার জন্য র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান তাঁরা।


মন্তব্য