kalerkantho


সোনার দোকানে সন্ধ্যায় ধর্মঘট ডেকে রাতে প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মে, ২০১৭ ০০:০০



সোনার দোকানে সন্ধ্যায় ধর্মঘট ডেকে রাতে প্রত্যাহার

সারা দেশে সোনার দোকানে ধর্মঘটের ডাক দিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সোনার দোকানে হয়রানিমূলক অভিযান চালাচ্ছে—এমন অভিযোগে এবং এমন অভিযান প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমিতি ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। কিন্তু এর ঘণ্টা তিনেক পর শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয় তারা।

রাজধানীর বনানীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। গত ৬ মে সাফাতের বিরুদ্ধে মামলার পর তাদের ব্যবসায় অবৈধ বিষয় থাকার অভিযোগে তদন্তে নামে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। অভিযানে আপন জুয়েলার্সের বিক্রয়কেন্দ্র সিলগালা করে দেওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সোনা ও হীরা জব্দ করা হয়।

তবে ধর্মঘটের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আপন জুয়েলার্সের কথা উল্লেখ ছিল না। সেখানে বলা ছিল, আমিন জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারকে আটকের পরিপ্রেক্ষিতে সমিতি গতকাল জরুরি সভা ডেকে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ধর্মঘট ডাকার পর রাতে এনবিআর চেয়ারম্যান, শুল্ক গোয়েন্দার ডিজি এবং সোনা ব্যবসায়ীরা জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর রাত ১১টার দিকে বাজুস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সোনা ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক কোনো অভিযান পরিচালনা করা হবে না।

বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা কালের কণ্ঠকে বলেন, ধর্মঘট ডাকার পরিপ্রেক্ষিতে সমিতির নেতারা শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ফলপ্রসূ আলোচনার পর জুয়েলার্স সমিতি ঘর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

এর আগে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি গঙ্গাচরণ মালাকার ধর্মঘট প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘আপন জুয়েলার্সের মতো আমিন জুয়েলার্সেও গোয়েন্দারা তল্লাশি চালাচ্ছেন—এমনটা জেনে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছিল। আমাদের এই ধর্মঘট দেওয়া ঠিক ছিল না। তাই প্রত্যাহার করছি। ’

এদিকে নিউ মার্কেটের আমিন জুয়েলার্সে অভিযান চালানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযান শুল্ক গোয়েন্দা পরিচালনা করেনি। ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল ভ্যাট পরিশোধের কাগজপত্র দেখতে চায়। এরপর তারা চলে আসে। ’ তবে তিনি জানান, ‘আপন জুয়েলার্সে অভিযান চালানোর সময় সমিতির কিছু প্রতিনিধিকে নিয়ে আমরা অভিযান চালাই। ’

সোনা ব্যবসায়ীদের সূত্র জানায়, তারা জুয়েলারি শিল্পের ব্যবসার জন্য সোনা আমদানি নীতিমালা বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছে। সমিতির পক্ষ থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত জুয়েলারি সমিতির মালিকদের তাঁদের দোকান বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। জানা গেছে, এ সমিতির অধীনে সারা দেশে বর্তমানে প্রায় ৭০০ সদস্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে।


মন্তব্য