kalerkantho


‘তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারদের বিল নয়’

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



‘তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারদের বিল নয়’

ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণকাজে অনিয়ম-দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল সুনামগঞ্জের হাওরে বিভিন্ন বাঁধ পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধিদলটি গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিভিন্ন হাওরের বাঁধ পরিদর্শন করে।

পরিদর্শন শেষে বিকেলে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে তদন্তদলের প্রধান দুদকের পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন।

জানা গেছে, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে গঠিত দুদকের এই বিশেষ কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনে গত বুধবার সিলেটে আসে। তারা সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং আনুষঙ্গিক কাগজপত্র সংগ্রহ করে। গতকাল সকালে তারা জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন প্রকল্প দেখতে যায়। তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, জামালগঞ্জের হালির হাওর, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের বাঁধের কাজ পরিদর্শন করে তারা।

হাওর পরিদর্শন শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক সেলিনা আক্তার মনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আজ ফিজিক্যাল পরিদর্শন করে দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ অনুসন্ধান করছি। কাগজপত্র পেলে আমরা বলতে পারব কোন বাঁধে কতটুকু কাজ হয়েছে। এখন আমরা এসব তথ্য-প্রমাণও সংগ্রহ করছি। সেগুলো তদন্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করব।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমরা অন্য সব বিষয়ের বদলে কাজে সরকারের অর্থ অপচয় হয়েছে কি না তা দেখব। এটা প্রমাণ হলে আমরা দুদক আইনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। ’ তিনি বলেন, ‘পরিদর্শনে দেখলাম শনির হাওরের বাঁধ এখনো টিকে আছে। কিন্তু পাশের মাটিয়ান হাওর একই লেভেলের হয়েও তলিয়ে গেছে। এসব কেন হয়েছে আমরা খতিয়ে দেখব। ’ তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে তাঁরা এখন প্রাথমিক পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনসহ নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন বলে জানান।

তদন্তদলের প্রধান দুদকের পরিচালক বেলাল হোসেন বলেন, ‘হাওরে বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে এর সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা, পিআইসিসহ যে কেউই হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হবে না। ’ তিনি বলেন, ‘যথাযথভাবে ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাঁধের কাজ সম্পন্ন না করলে চুরি থাকবেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে অভিযুক্ত ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাও জানতে চেয়েছি। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে দুর্নীতি রোধে দুদক সরকারের কাছে নানামুখী সুপারিশ করবে। এর সুফল অবশ্যই ফসলহারা হাওরবাসী পাবে। ’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুদকের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক শিরিন পারভিন, উপপরিচালক রেবা হালদার ও উপসহকারী পরিচালক রঞ্জিত কর্মকার।

 

গ্যাসে মাছের মহামারি, শিকার নিষিদ্ধ

হাওর-জলাশয়ে ধান পচে অ্যামোনিয়া গ্যাসে মাছের মহামারি শুরু হওয়ায় প্রশাসন মাইকিং করে পচা মাছ না খেতে নির্দেশনা দেওয়ার পর সাত দিনের জন্য হাওর-জলাশয়ে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম এ নির্দেশনা জারি করেছেন। তবে ভাসান পানিতে মাছ ধরা যাবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

প্রশাসন জানায়, কয়েক দিন ধরে হাওর-জলাশয়ে মাছ মরে ভেসে উঠছে। এতে হাওরবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। গত রবিবার থেকে মত্স্য বিভাগ বিভিন্ন উপজেলায় মাইকিং করে মরা মাছ খাওয়া থেকে জনগণকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে আসছে। অবস্থা অপরিবর্তিত থাকায় সুনামগঞ্জের হাওর-জলাশয়ে সব ধরনের মাছ ধরা এক সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।

এদিকে দূষিত পানিতে বিচরণ করতে গিয়ে হাওরের বিভিন্ন স্থানে হাঁসও মারা যাচ্ছে। জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের নুসরাত হাঁসের ফার্মের মালিক আবুল কাশেমের প্রায় চার হাজার হাঁস মরে গেছে। এতে প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে খামারি জানান।

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কামরুল ইসলাম জানান, দূষিত পানি খেয়ে হাঁস মারা যাচ্ছে। আর মাছ মারা যাচ্ছে অ্যামোনিয়া গ্যাসে।

জেলা মত্স্য কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার দাস বলেন, ‘আমরা মাইকিং করে হাওরে ভেসে ওঠা পচা মাছ না খাওয়ার জন্য সতর্কতা জারি করেছি। পাশাপাশি সাধারণত সব সময় মাছ ধরা হয় এমন স্থানগুলোতে মাছ না ধরার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। ’


মন্তব্য