kalerkantho


বাল্যবিয়ে ঠেকানো সেই শারমিন এখন বিশ্বমুখ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৩০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বাল্যবিয়ে ঠেকানো সেই শারমিন এখন বিশ্বমুখ

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সাহসী নারীর পুরস্কার (সেক্রেটারি অব স্টেটস ইন্টারন্যাশনাল উইমেন কারেজ অ্যাওয়ার্ড) পাচ্ছে বাংলাদেশের শারমিন আক্তার। নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকাতে অনন্য সাহসের পরিচয় দিয়েছিল ঝালকাঠির এ কিশোরী। মাত্র ১৫ বছর বয়সে এমন পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার কিশোরীদের জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করায় চলতি বছরে তাকে সাহসী নারীর এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

শারমিন ছাড়াও আরো ১২টি দেশের একজন করে নারীকে তাদের সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা হলেন বতসোয়ানার মালেবোগো মালেফে, কলম্বিয়ার নাতালিয়া পনসে দো লিয়ো, কঙ্গোর রেবেকা কাবুঘো, ইরাকের জান্নাত আল গাজি, নাইজারের আইশাতু ইসাকা উসমানে, পাপুয়া নিউ গিনির ভেরোনিকা সিমোগুন, পেরুর সিন্ডি আর্লেট কন্ট্রেরাস বৌতিস্তা, শ্রীলঙ্কার সন্ধ্যা একনেলিগোডা, সিরিয়ার ক্যারোলিন তাহান ফাচাখ, তুরস্কের সাদেত অজকান, ভিয়েতনামের নগুয়েন গক নু কুইন ও ইয়েমেনের ফাদিয়া নাজিব থাবেত।

এই ১৩ জন সাহসী নারী গত রাতে ওয়াশিংটনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার গ্রহণ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি টমাস এ শ্যানন পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

শারমিন আক্তারকে তার মা মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে সে নিজেই তা সাহসের সঙ্গে ঠেকিয়ে দেয় এবং পড়ালেখা চালিয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় বাল্যবিয়ে মোকাবেলায় সে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, বিশ্বে বাল্যবিয়ের উচ্চ হারের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এ প্রবণতা দেশটির লাখ লাখ নারীর স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও শিক্ষার অধিকারকে হুমকিতে ফেলে এবং দেশের অগ্রগতিকেও বাধাগ্রস্ত করে।

শারমিন তার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বয়সী এক ব্যক্তিকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে অনন্য সাহস দেখিয়েছে। সে নীরবতা ভেঙে নিজের মা ও বাল্যবিয়েতে আগ্রহী ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় এনেছে। সাহসী নারী শারমিন বর্তমানে ঝালকাঠির রাজাপুর পাইলট গার্লস হাই স্কুলের একজন ছাত্রী। সে একজন আইনজীবী হয়ে জোরপূর্বক বিয়ের ক্ষতিকর প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর স্বপ্ন দেখে।

নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি সত্ত্বেও শান্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার, লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়নকে উৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী সাহস এবং নেতৃত্ব দেওয়া নারীদের প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার দিয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০০৭ সালে এ পুরস্কার চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত সারা বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশের শতাধিক নারীকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

গত বছর বাংলাদেশের আইনজীবী সারা হোসেনকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। এর আগের বছর পুরস্কারটি পেয়েছিলেন সাংবাদিক নাদিয়া শারমীন। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৌলবাদী সংগঠনটির কর্মীদের হামলায় আহত হন নাদিয়া। সে সময় তিনি ছিলেন একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদক।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে কালের কণ্ঠসহ একাধিক গণমাধ্যমে শারমিনের সাহসিকতা নিয়ে খবর প্রকাশ হয়। সে সময় মা গোলনূর মেয়েকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়েও রাজি করাতে ব্যর্থ হন। এরপর মিথ্যা কথা বলে খুলনায় নিয়ে গিয়ে প্রতিবেশী যুবক স্বপনের (৩২) সঙ্গে মেয়েকে একঘরে আটকে রাখারও অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। পরদিন সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে গেলেও ধরা পড়ে যায় শারমিন। এরপর তাকে ঝালকাঠিতে নিজের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। ১৬ আগস্ট শারমিন আবারও বাড়ি থেকে পালিয়ে এক সহপাঠীকে নিয়ে থানায় গিয়ে মামলা করে। পুলিশ তার মা ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করার পর আদালত শারমিনকে দাদীর জিম্মায় দেন।


মন্তব্য