kalerkantho


ছায়ানীড়ে অভিযান সমাপ্ত শেষ দিনেও মিলল বোমা

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চৌধুরীপাড়ার জঙ্গি আস্তানা ‘ছায়ানীড়ে’ পাঁচ দিনে অভিযান শেষ করেছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। গতকাল সোমবার দুপুর ১টার দিকে সর্বশেষ কক্ষ তল্লাশি করা হয়।

এ সময় সেখানে পাওয়া বোমা নিষ্ক্রিয়করণের মধ্য দিয়ে অভিযানের সমাপ্ত ঘোষণা করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। ছায়ানীড় ভবনটি এখন থেকে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে থাকবে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি ইফতেখার হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সোমবার দুপুরে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের অভিযান শেষ হয়। তারা সকাল ১০টা থেকে ফ্ল্যাটের তৃতীয় নম্বর কক্ষে অভিযান চালায়। এখন থেকে ওই বাড়ি থানা পুলিশের হেফাজতে থাকবে। ’

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার নাগাদ সিএমপির বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) রাযেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বে একটি দল ছায়ানীড়ে প্রবেশ করে। তারা বাড়ির দ্বিতীয় তলার জঙ্গিদের আস্তানার তৃতীয় কক্ষটি তল্লাশি চালিয়ে লেপ-তোশকের ভেতর থেকে একটি বড় বোমা, ১১টি জেল বোমা উদ্ধার করে এগুলো পর্যায়ক্রমে নিষ্ক্রিয় করে। ওই দিন বোমা নিষ্ক্রিয়করণের কাজ শেষ হয় দুপুর ১টার নাগাদ।

এসআই রাযেশ বড়ুয়া গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত কয় দিনের অভিযানে ৩৭টি ছোট-বড় বোমা উদ্ধার করে এগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

উদ্ধার হয়েছে ছয়টি ড্রামভর্তি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ও একটি ড্রামভর্তি এসিড। ’

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ দুপুর আড়াইটার দিকে সীতাকুণ্ড পৌরসভার আমিরাবাদের সাধন কুটির নামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জহিরুল হক ওরফে জসীম ও তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ওরফে আর্জিনা আটক করে পুুলিশ। ওই দিন বিকেল ৩টার নাগাদ পৌর সদরের চৌধুরীপাড়ার ছায়ানীড়ে অভিযান চালাতে গেলে ঘরে থাকা জঙ্গি সদস্যরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়ে। এতে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হকসহ পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। এরপর প্রথমে জেলা পুলিশের সদস্যরা বাড়ির চারদিক ঘিরে রাখেন। পরে একে একে সোয়াত, সিএমপি ও ডিএমপির গোয়েন্দা দল, জেলা পুলিশের একাধিক ইউনিট অভিযানে অংশ নেয়। পরদিন ১৬ মার্চ সকাল সাড়ে ৬টার নাগাদ সোয়াতের নেতৃত্বে মূল অভিযান শুরু হয়। অভিযানের শেষ হয় সকাল ১০টায়। এ সময় নিজেদের আত্মঘাতী বোমায় নিহত হয় এক নারী জঙ্গি, শিশুসহ পাঁচজন।


মন্তব্য