kalerkantho


পুলিশ নিয়ে হামলা অন্তঃসত্ত্বাকে লাথি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পুলিশ নিয়ে হামলা অন্তঃসত্ত্বাকে লাথি

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি প্রভাবশালী পক্ষ পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এক অটোরিকশাচালকের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা অটোরিকশাচালকের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কিল-ঘুষি এবং চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে পর পর সজোরে লাথি মারে।

এ সময় অটোরিকশাচালক, তাঁর মা ও ছোট ভাইকে মারধর করা হয়। ঘটনার পর প্রভাবশালী মাতব্বররা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে থানায় যেতে বারণ করে।

গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড (কড়ুইতলী) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্বজনরা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। পরে হাসপাতালে তাঁর জ্ঞান ফেরে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গর্ভের শিশুটি এখনো ভালো আছে; কিন্তু গর্ভের তরল লিকেজ হওয়ায় জীবননাশের শঙ্কা রয়েছে।

নির্যাতিত অন্তঃসত্ত্বার নাম হামিদা বেগম (২২)। তিনি ওই গ্রামের দরিদ্র অটোরিকশাচালক সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আমান উল্লাহ (৩৮)।

সে একই এলাকার সফিরউদ্দিনের ছেলে। ঘটনার পর থেকে আমান উল্লাহ পলাতক।

গ্রামবাসী জানায়, পৈতৃক এক খণ্ড জমিতে ঘর তুলে ১০-১২ বছর ধরে বসবাস করছিলেন সিরাজুল ইসলাম। গত কয়েক মাস ধরে প্রভাবশালী আমান উল্লাহ জমিটির মালিকানা দাবি করে সিরাজুলকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। এ লক্ষ্যে গত শনিবারও আট-দশজন সহযোগীসহ আমান উল্লাহ ওই বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল।

সিরাজুল ইসলাম জানান, গতকালের হামলায় তিনিসহ তাঁর মা রাহিমা খাতুন ও ছোট ভাই রিয়াজ উদ্দিনও গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর প্রভাবশালী মাতব্বররা তাঁকে থানায় যেতে বারণ করেন। তিনি আরো জানান, ওই ঘটনায় মাতব্বররা আজ মঙ্গলবার সকালে সালিসে আপসরফার দিন ধার্য করেন।

প্রতিবেশীরা জানায়, সকাল ১১টার দিকে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে যায়। পুলিশের ওই দলটির সঙ্গে আমান উল্লাহ ও তার কয়েকজন সহযোগীও ছিল। তারা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সিরাজুল ইসলামকে আটকের পর অন্যদেরও খুঁজছিল। ওই সময় অন্তঃসত্ত্বা হামিদা বেগম পুলিশের কাছে তাঁর স্বামীকে আটকের কারণ জানতে চান। এতে আমান উল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী কোহিনূর বেগম জানান, পুলিশের সামনেই আমান উল্লাহ অশ্লীল গালি দিয়ে হামিদার ওপর চড়াও হয়। হামিদাকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মেরে চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে হামিদার পেটে পর পর দুটি লাথি মারে আমান উল্লাহ। এতে তাত্ক্ষণিক মূর্ছা যান হামিদা বেগম।

জাহাঙ্গীর আলম নামের এক তরুণ ব্যবসায়ী জানান, ঘটনা দেখে স্বজনরা ডাকচিত্কার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে যায়। পরে সিরাজুল ইসলামকে রেখেই ফিরে যায় পুলিশ। ঘটনার পর পালিয়ে যায় আমান উল্লাহ।

স্বজনরা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হামিদাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসরিন সুলতানা জানান, হাসপাতালে আনার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর হামিদার সংজ্ঞা ফেরেছে। আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে দেখা গেছে, গর্ভের শিশুটি অক্ষত রয়েছে। তবে গর্ভের লিকুইড লিকেজ হওয়ায় শিশুটির জীবনের আশঙ্কা রয়েছে।

সিরাজুল ইসলাম ও তাঁর এক আত্মীয় জাহাঙ্গীর আলম জানান, হামিদাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর থেকে পুলিশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তাঁরা অভিযোগ করেন, পুলিশের অভিযুক্ত এসআই খায়রুল ইসলাম একাধিকবার হাসপাতালে গিয়ে সিরাজুল ও তাঁর স্বজনকে অনুরোধ করছেন, তাঁরা যেন হামলা চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতির কথা প্রকাশ না করেন।

তবে পুলিশের সামনে হামলা হয়নি বলে দাবি করেছেন এসআই খায়রুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে আমি সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। কাউকে খুঁজে না পেয়ে ফিরে আসি। কিছু সময় পর জেনেছি, সিরাজুলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর হামলা চালিয়েছে আমান উল্লাহ। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আমি হামিদাকে দেখেও এসেছি। ’ পুলিশের সঙ্গে আমান উল্লাহ ছিল কি না এর জবাবে ওই এসআই আরো বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ছিল, তবে সিরাজুলের বাড়িতে যায়নি আমান উল্লাহ। ’


মন্তব্য