kalerkantho


জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ

রোহিঙ্গা নিপীড়নে উদ্বেগ জানানো বিবৃতি আটকে দিল চীন ও রাশিয়া

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্রতিবেশী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিপীড়নে উদ্বেগ জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তৈরি একটি বিবৃতির খসড়া আটকে দিয়েছে চীন ও রাশিয়া। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে গত শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বৈঠকে জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক বিভাগের প্রধান জেফরি ফেল্টম্যান রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করেন। যুক্তরাজ্যের অনুরোধে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত মাসে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা নিপীড়ন, গণধর্ষণ ও গণহত্যা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়াসহ গোষ্ঠীগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে।

চলতি মাসে নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাতিসংঘে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ম্যাথু রেক্রফট। গত শুক্রবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বিষয়টি এনেছিলাম, বিবৃতির প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু এ নিয়ে ঐকমত্য হয়নি। ’

ম্যাথু রেক্রফট বলেন, মিয়ানমারের প্রতিবেশী চীন ওই প্রস্তাব আটকে দিয়েছে। রাশিয়াও ওই আটকে দেওয়াকে সমর্থন করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, তারা ওই খসড়া বিবৃতি দেখেছে।

সেখানে মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি ও ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে বছরের পর বছর ধরে চলা অস্থিতিশীলতা, বিশেষ করে গত অক্টোবর মাস থেকে সামরিক অভিযান শুরুর পর এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশে। অক্টোবর মাসের পর থেকে মিয়ানমারের অন্তত ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে থেকেই বাংলাদেশে ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ‘শরণার্থী’ হিসেবে অবস্থান করছে। এর বাইরে বাংলাদেশে আছে মিয়ানমারের আরো প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গত বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা মুসলমান জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি আন্তর্জাতিক তদন্তদল পাঠাতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানায়।

অন্যদিকে গত শুক্রবার রাতে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে প্রতিনিধি সভার টম ল্যান্টোস মানবাধিকার কমিশনের শুনানিতে বক্তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করলেও জোরালো কোনো উদ্যোগ নিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপারিশ করার ব্যাপারে একমত হতে পারেননি। বক্তারা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ ও ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য নতুন করে কোনো সহায়তা না দেওয়ার প্রস্তাব শুনানিতে এলেও এ বিষয়ে কোনো সুপারিশ গৃহীত হয়নি।


মন্তব্য