kalerkantho


কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

দ্বিগুণ ফলনের রসুন উদ্ভাবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



দ্বিগুণ ফলনের রসুন উদ্ভাবন

গবেষণার জগতে আরো এক ধাপ এগিয়েছে ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)। প্রতিষ্ঠানটি এবার রসুন চাষে নতুন সাফল্য পেয়েছে।

তারা বর্তমানে প্রচলিত রসুনের জাতের চেয়ে দ্বিগুণ ফলনের একটি জাত উদ্ভাবন করেছে। গতকাল শনিবার ময়মনসিংহের সুতিয়াখালীর কাশিয়ার চরে কৃষক সমাবেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে রসুনের এ জাত সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে উৎপাদিত ফলনও কৃষকদের সরেজমিনে অবহিত করা হয়।

বিনার বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘রসুন পৃথিবীর এক আদি ফসল। প্রায় চার হাজার বছর পূর্বেও মিসরে রসুন আবাদের প্রমাণ মেলে। এখন পৃথিবীর অনেক দেশেই রসুন আবাদ হয়। কিন্তু আমাদের দেশ এখনো রসুনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারেনি। দেশের চাহিদা মেটাতে আমাদের বিদেশ থেকে রসুন আমদানি করতে হয়। রসুন মূলত শীতকালীন ফসল।

আমন-বোরোর মাঝখানের সময় তিন মাস মেয়াদি এ ফসলটি কৃষকরা চাইলেই উৎপাদন করতে পারে। অক্টোবরের ১৫ থেকে নভেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে রসুনের বীজ বপন করতে হয়। ’

বিনা বিজ্ঞানীরা জানান, দেশে প্রচলিত জাতের রসুন প্রতি হেক্টরে সর্বোচ্চ ছয় থেকে আট টন পর্যন্ত হতে পারে। এর বেশি উৎপাদন সম্ভব হয় না। এ চিন্তা থেকেই ২০১৩ সালে বিনা বিজ্ঞানীরা উচ্চ ফলনশীল রসুনের জাত উদ্ভাবনে কাজ শুরু করেন। রসুনের বিভিন্ন জাত সংগ্রহ করা হয় ভারতের নদীয়া এলাকা থেকে। এরপর চলে নানা রকম গবেষণা। অবশেষে সাফল্য ধরা দিল। এরপর এ বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে নতুন জাতটি ছাড়পত্র করানো হয়। এরপর গতকাল শনিবারই প্রথমবারের মতো কৃষকপর্যায়ে জাতটির গুণাগুণ বর্ণনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

নব উদ্ভাবিত রসুনের জাতটি (বিনা রসুন-১) জনপ্রিয় ও প্রসারের উদ্দেশ্যে ‘বিনা’ উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে কৃষক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ‘বিনা’ উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. রফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন বিনার পরিচালক (গবেষণা) হোসনেয়ারা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবিনা ইয়াসমীন। আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিজ্ঞানী ড. শামসুল আলম, নুরুন্নবী মজুমদার, ফরিদ আহম্মেদ প্রমুখ।

নতুন জাতটির উদ্ভাবক বিনার উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ জাতটি চাষ হলে দেশে রসুনের ঘাটতি অনেকটা কমে আসবে। কৃষকরাও লাভবান হবে। বিনার পরিচালক (গবেষণা) হোসনেয়ারা বলেন, তাঁরা নতুন এ জাতটি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চান। দেশের যেকোনো জায়গায় তাঁরা নতুন জাতের এই বীজ সরবরাহ করতে এখন প্রস্তুত। ময়মনসিংহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবিনা ইয়াসমীন বলেন, মাঠপর্যায়ে নতুন রসুনের জাতটি যাতে জনপ্রিয় হয় সে জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। ময়মনসিংহে এখন রসুনের আবাদ আগের চেয়ে বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নতুন এ রসুনের জাতটি ময়মনসিংহের সুতিয়াখালীর কাশিয়ার চরে আবাদ করেছেন কৃষক গোলাম মোস্তফা (৩৫)। তিনি বলেন, ভালো ফলন দেখে অনেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এই রসুন চাষ লাভজনক বলে তিনি নিজেও আবাদে আগ্রহী হয়েছেন।


মন্তব্য